আগামী নির্বাচনের জন্য বিএনপি যে সহায়ক সরকারের কথা বলছে সংবিধানে তার কোনো অস্তিত্ব নেই বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ীই একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে। বর্তমানে যে সরকার রয়েছে সেই সরকারই সহায়ক সরকার হিসেবে কাজ করবে।
শনিবার সকাল ১০টার দিকে সাতক্ষীরা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
রাশেদ খান মেনন বলেন, মিয়ানমারে জাতিগত নির্যাতন ও গণহত্যার শিকার রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। তাদেরকে আশ্রয় না দিলে তা হতো অমানবিক। তবে তাদের আশ্রয় দেয়ায় স্থানীয়ভাবে কিছু অভিঘাত আসবে। এরই মধ্যে উখিয়া ও টেকনাফ এলাকার জনসংখ্যা অপেক্ষা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে বাংলাদেশের পর্যটন খাতে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। পাহাড় ও বন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও নষ্ট হচ্ছে। সেন্টমার্টিনে ১ অক্টোবর থেকে পর্যটন মৌসুম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ২০১১ সালের আদম শুমারি অনুযায়ী ২০১৪ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নতুন করে আর আদম শুমারি হয়নি। এ অবস্থায় নতুন করে সীমানা নির্ধারণের চেষ্টা করা হলে নানা জটিলতার সৃষ্টি হবে। এতে নির্বাচনও খানিকটা বাঁধাগ্রস্ত হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তার মামলার রায় তড়িঘড়ি করে দেয়ার যে অভিযোগ করেছেন সে বিষয়ে রাশেদ খান মেনন বলেন, তিনি ৫৪ বার তার মামলা স্থগিত করার সুযোগ পেয়েছেন। এমনকি আট মাস মামলা আটকে রেখেছেন। প্রতিটি মামলার ধার্য দিনের মধ্যে সাত দিন সময়ও পাচ্ছেন তিনি। সুতরাং তড়িঘড়ি করে তার মামলার রায় ঘোষণার যে অভিযোগ তিনি তুলেছেন তা যথার্থ নয়।
পরে মন্ত্রী সাতক্ষীরা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অক্টোবর বিপ্লবের শত বার্ষিক উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।
সাতক্ষীরা-তালা কলারোয়া আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অধ্যাপক ড. সুশান্ত দাস, মহিবুল্লাহ মোড়ল প্রমুখ বক্তব্য দেন।
আকরামুল ইসলাম/আরএআর/এমএস