দেশজুড়ে

ভালো নেই দুবলার চরের জেলেরা

জীবন জীবিকার তাগিদে প্রতি বছরই হাজারো জেলে সাগর পাড়ি দিয়ে চলে যান দুবলার চরে। সাগর থেকে মাছ ধরে তা শুকিয়ে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন এমন মানুষের সংখ্যা কম নয়। সাতক্ষীরার তালা, আশাশুনি, শ্যামনগর, কালিগঞ্জ উপজেলা থেকে এবছরও দুবলার চরে মাছ ধরতে গিয়েছেন হাজার খানেক মানুষ। শুধু এরা নয় রয়েছেন খুলনার বটিয়াঘাটা, দাকোপ, কয়রা, পাইকগাছা, বাগেরহাটের মংলা, শরণখোলা, মোড়লগঞ্জসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লক্ষাধিক জেলে।

বঙ্গোপসাগরের দুলবার চরের আলোরকোলে মাছ ধরতে যাওয়া সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের শ্রমন্তকাটি গ্রামের সফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয় জাগো নিউজের এ প্রতিবেদকের।

সফিকুল ইসলামে বলেন, গত ১৪ বছর যাবৎ তিনি দুবলার চরে মাছ আহরণ করতে আসেন। এ চরের আলোরকোল এলাকায় চিকিৎসা ব্যবস্থা এমনকি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আশ্রয় নেয়ার মতো কোনো জায়গা নেই। দস্যুদের ভয় সারাক্ষণ তাড়া করে বেড়ায় জেলেদের।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ সিডরের সময় আমি এখানেই ছিলাম। মৃত্যু যন্ত্রণা নিজ চোঁখে দেখেছি। কোনো আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় খোলা আকাশের নিচে সিডর মোকাবেলা করেছে লক্ষাধিক জেলে ও মাঝি।

তালা সদরের মালোপাড়ার গোবিন্দ হালদার বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও জীবন-জীবিকার তাগিদে দুবলার চরে এসেছি। গত বছর আমার ভাতিজাকে দস্যুরা অপহরণ করেছিল। এরপর অনেক কষ্টে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করেছিলাম। এসবের পরও বেঁচে থাকার তাগিদে দুবলার চরে মাছ ধরতে আসতে হয়। এটাই আমাদের নেশা-পেশা আর বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। সামুদ্রিক লইট্যা, ছুরিসহ অন্যান্য মাছ ধরে রোদে শুকিয়ে তারপর বিক্রি করি।

গোবিন্দ হালদার আরো বলেন, সাগরে জেলেরা একটুও নিরাপদ নয়। জীবন বাজি রেখে মাছ ধরতে হয়। দস্যুরা কখনো কষ্টে ধরা মাছগুলো নিয়ে যায় আবার কখনো জেলেদের ধরে নিয়ে যায়। মুক্তিপণ না দিলে সাগরে ভাসিয়ে দেয়।

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার আশুতোষ হালদার বলেন, এখান থেকে সরকার প্রতি বছর ৫০-৬০ লাখ টাকা রাজস্ব পায়। অথচ জেলেদের জন্য কিছু করে না। বছরের প্রায় অর্ধেক সময় আমরা এখানে থাকি। অনেক সময় চিকিৎসার অভাবে অনেকে মারাও যায়। কিছুই করার থাকে না। দুবলার চরে কয়েকটি সাইক্লোন শেল্টার করার দাবি জানান আশুতোষ হালদার।

আকরামুল ইসলাম/এফএ/পিআর