দেশজুড়ে

অবসানের পথে নোয়াখালীর দুঃখ

দখল আর দূষণে ভরাট হয়ে যাওয়া নোয়াখালীর দুঃখ ‘নোয়াখালী খাল’ অবশেষে পুনঃখননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কাল বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ খাল খননের কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জলাবদ্ধতা দূরীকরণে দীর্ঘদিন পর খাল খননের উদ্যোগে খুশি জেলার সর্বস্তরের মানুষ।

একটা সময় নদীর বুক চিরে জেগে উঠেছিল নোয়াখালী। আর নোয়াখালীর বুক চিরে নোয়াখালী খাল, বরোপিট খাল, আলগীর খাল, বামনী নদীসহ ছোট-বড় প্রায় ২৮৮ খাল শাখা খাল তৈরি হয়। এসব খাল ঘিরেই গড়ে উঠেছিল হাট বাজার। চার মোহনায় অবস্থিত চৌমুহনী বাণিজ্য কেন্দ্র এরমধ্যে অন্যতম। সেসময় বড় বড় ডিঙ্গি আর পাল তোলা নৌকায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যাবসা করতে আসতেন পাইকাররা। কিন্তুু বর্তমানে সে খরস্রোতা খাল কোথাও কোথাও নালা-নর্দমায় পরিণত হয়েছে। খাল দখল করে তৈরি হয়েছে বড়বড় অট্টালিকা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে স্থাপনা তৈরির ফলে প্রায় একশ ১০ মিটার প্রস্থের চৌমুহনী খাল এখন কোনো কোনো স্থানে ৩০-৩৫ মিটারে নেমে এসেছে। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় বছরের পর বছর খালগুলোর বেশির ভোগ দখলে আর দূষণে ভরাট হয়ে গেছে।

এছাড়া পলি পড়ে খালের তলা উঁচু হয়ে যাওয়ায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে উজান ও বৃষ্টির পানিতে দেখা দেয় প্রকট জলাবদ্ধতা ও বন্যা। আবার শুস্ক মৌসুমে দেখা দেয় ফসলি জমিতে পানির তীব্র সংকট। সেচ সুবিধা না থাকায় বছরের বেশির ভাগ সময় হাজার হাজার হেক্টর জমি থাকে পতিত।

২০১৩ সালে নোয়াখালীর মাইজদী হাউজিং মাঠের এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নোয়াখালী খাল পুনঃখননসহ নোয়াখালীর জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছিলেন। অবশেষে সে আশ্বাসের বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। আগামীকাল ২০১৬ সালের ৩২৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যায়ে ‘নোয়াখালীর জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন’ প্রকল্পের কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। কাজটির বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সেনাবাহিনী।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১০ নভেম্বর প্রকল্পটি একনেকের সভায় অনুমোদিত হয়। প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২১ সালের জুন মাসে। এর মধ্যে রয়েছে খাল খনন ১৮২ কিলোমিটার, বামনী নদীর ৭ কিলোমিটার ড্রেজিং, একটি রেগুলেটর নির্মাণ, দুটি ড্রেনেজ স্লুইস নির্মাণ, ১০ কিলোমিটার নদীর তীর নির্মাণ, সাড়ে ১১ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও ১১শ ৫২ মিটার লুপ কাট খনন।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নোয়াখালী জেলার প্রধান প্রধান খালগুলো পুনঃখনন হবে। একইসঙ্গে প্রায় ১৬০ বর্গ কিলোমিটার এলাকার নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নিতকরণের মাধ্যমে জলাবদ্ধতার সমস্যা দূরিকরণে একটি সুপরিকল্পিত নিষ্কাশন নেটওয়ার্ক তৈরি হবে।

সরকারের এ উদ্যোগে ব্যাপক খুশি জনসাধারণ। তারা জানান, বিভিন্ন সময় স্থানীয় প্রশাসন তাদেরকে আশ্বাস দিলেও কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ কেউ গ্রহণ করেনি। কিন্তুু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তার দেয়া প্রতিশ্রুতি রেখেছেন।

মিজানুর রহমান/এফএ/আইআই