দেশজুড়ে

১ মাস কারাবন্দি, তবুও বরখাস্ত হননি পিআইও

দুদকের মামলায় এক মাস কারাবন্দি থেকেও লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. দেলোয়ার হোসেন বরখাস্ত হননি। প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ মামলায় গত ৩ ফেব্রুয়ারি তাকে গ্রেফতার করে দুদক।

অদৃশ্য কারণে তাকে বরখাস্ত করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ওই কার্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, দেলোয়ার হোসেন লক্ষ্মীপুর কারাগারে থাকায় ১৯ ফেব্রুয়ারি রামগঞ্জের পিআইও বোরহান উদ্দিনকে রায়পুরের (অতিরিক্ত) দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরি বিধি মোতাবেক কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে যদি অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গঠন হয় এবং আটক বা গ্রেফতার হন, তাহলে তিনি বরখাস্ত হবেন। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

১০ নম্বর রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিউল আজম চৌধুরী সুমন বলেন, কারাগারে থাকা পিআইও দেলোয়ার হোসেন জামিনে বেরিয়ে যেন জবাবদিহিতা ছাড়াই স্বপদে বহাল থাকতে পারেন তার জন্য তৎপরতা চলছে। অদৃশ্য কারণে তাকে বরখাস্ত করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে।

এ ব্যাপারে জানতে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা মো. নাজমুল হাসান সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে ওই কার্যালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। পরবর্তী করণীয় সেখানে নির্ধারণ হবে। এছাড়া দুদক আনুষ্ঠানিকভাবে তাদেরকে কিছুই জানায়নি বলে দাবি করা হয়।

উল্লেখ্য, পিআইও গ্রেফতারের পর দুদকের রাঙ্গামাটি সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সৈয়দ নজরুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, জেলেদের চাল ও রাস্তার কাজ না করে টাকা আত্মাসাৎ করার ঘটনায় ২০১১ সালের ১৯ জুলাই ও পরের বছরের ২৭ মার্চ রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা হয়। এসব মামলায় তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে দুদক।

কাজল কায়েস/এএম/আরআইপি