নওগাঁয় পুলিশের হেফাজতে আবু বক্কর সিদ্দিক (৫০) নামে এক আসামির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। রোববার সন্ধ্যার দিকে সদর থানা পুলিশের হেফাজতে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে থানা পুলিশের দাবি, আবু বক্করকে থানায় নিয়ে আসার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং স্ট্রোক করে তিনি মারা যান। নিহত আবু বক্কর সদর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের বলিরঘাট মন্ডলপাড়া গ্রামের মৃত বশরত আলীর ছেলে।
নওগাঁ সদর হাসপাতাল সূত্র জানায়, রোগীকে মুমূর্ষ অবস্থায় সন্ধ্যায় সাড়ে ৬টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোগী অজ্ঞান অবস্থায় ছিল এবং বমি করছিল। এর মধ্যে চিকিৎসা শুরু হলে রোগীর পালস (হার্ডবিট) কমতে থাকে। পরে রাত সোয় ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবু বক্কর মারা যান।
স্থানীয়রা জানান, আবু বক্কর সিদ্দিকের প্রায় আটজন স্ত্রী। এরমধ্যে পঞ্চম স্ত্রী রাশিদা বেগম। এর আগে রাশিদা অনত্র বিয়ে হয়েছিল। সে পক্ষের ছেলে রাশিদুল ইসলাম (১২)। রাশিদুল তার মায়ের সঙ্গে থাকত। রোববার দুপুরে বলিরঘাট মন্ডলপাড়া গ্রামের বাড়িতে আবু বক্কর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাশিদুলের মাথায় শাবল দিয়ে আঘাত করে। এতে গুরতর আহত হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় রাশিদুলের মা রাশিদা বেগম বাদী হয়ে তার স্বামী আবু বক্করের বিরুদ্ধে ওই দিন নওগাঁ সদর থানায় মামলা করেন। সেই মামলায় সদর থানা পুলিশ বিকেলে আবু বক্করকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এলাকাবাসীদের অভিযোগ সুস্থ অবস্থায় আবু বক্করকে আটক করে পুলিশ নিয়ে যায়। পুলিশের হেফাজতেই তার মৃত্যু হয়েছে।
নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সমিত কুমার কুণ্ড বলেন, এলাকা থেকে রোববার বিকেল সাড়ে ৪টায় আবু বক্কর সিদ্দিককে আটক করা হয়। থানায় আসার পর আবু বক্কর সিদ্দিক অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর সদর হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তবে পুলিশি হেফাজতে আসামির মৃত্যু অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
আব্বাস আলী/আরএ/জেআইএম