দেশজুড়ে

প্রেমের অভিনয় করে ইউপি চেয়ারম্যানকে হত্যা

যশোরের চৌগাছার উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল কাশেম হত্যা মামলায় তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীসহ ৫ জনের নামে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার আদালতে এ চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান। অভিযুক্ত আসামিরা হলেন, পাশাপোল ইউনিয়নের পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহীন রহমান ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী শ্যামলী খাতুন এ্যানি, যশোর সদরের বেড়বাড়ি গ্রামের মফিজ সরদারের ছেলে রফিক সরদার, শহরের ষষ্ঠীতলা এলাকার আব্দুল হকের ছেলে মামুন ও মণিরামপুরের শ্যামকুড় মাঝেরপাড়া গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মুজিব সড়কের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের কোয়ার্টারের বাসিন্দা মোশারফ হোসেন।

মামলার অভিযোগে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৩১ সেপ্টেম্বর যশোর শহরের সুরেন্দ্রনাথ রোডের পুকুরপাড় থেকে একটি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমে লাশের স্বজনদের না পেয়ে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফন করা হয়। তিনদিন পরে নিহত ব্যক্তি চৌগাছার পাশাপোল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বলে সনাক্ত হয়। এরই মধ্যে কোতোয়ালি থানা পুলিশের এসআই হায়াত মাহমুদ খান বাদী হয়ে অপরিচিত ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার অভিযোগে তিনি তরিকুল, শিশির, সম্রাট, জাহাঙ্গীরসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে সন্দেহ করেন।

মামলার তদন্তকালে চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের মোবাইল ফোনের কললিস্টের তথ্য অনুযায়ী শ্যামলী খাতুনকে আটক করে পুলিশ। শ্যামলী খাতুনের দেয়া তথ্যে কাশেম চেয়াম্যান হত্যার আসামিরা সনাক্ত হয়।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, পাশাপোল ইউনিয়ন নির্বাচনে আবুল কাশেমের কাছে শাহীন পরাজিত হয়। এরপর শাহীন তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী শাহীন তার দ্বিতীয় স্ত্রী শ্যামলীকে তার সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করতে বলে। শ্যামলী প্রায় কাশেম চেয়ারম্যানের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলতো।

২০১৬ সালে ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে শ্যামলী ফোন করে কাশেম চেয়ারম্যানকে যশোর আসতে বলে। কাশেম চেয়ারম্যান যশোর শহরের দড়াটানায় আসালে শ্যামলী তাকে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের কোয়ার্টারে মোশারফ হোসেনের বাসায় নিয়ে যায়। তারা বাসায় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শাহিন ও রফিক রুমে আসে। উভয়ে কথাবার্তার এক পর্যায়ে কাশেম চেয়ারম্যানকে প্রথমে মারপিট ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর গভীর রাতে কাশেম চেয়ারম্যানের লাশ একটি বিছানার চাদরে পেঁচিয়ে মামুনের সিএনজিতে নিয়ে শহরের সুরেন্দ্রনাথ সড়কের এক পুকুর পাড়ে ফেলে দেয়া হয়।

এ মামলা তদন্ত শেষে গ্রেফতার আসামিদের দেয়া তথ্য ও সাক্ষীদের বক্তব্যে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকায় ৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে এ চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। চার্জশিট অভিযুক্ত শাহীনকে পলাতক দেখানো হয়েছে।

মিলন রহমান/এমএএস/আরআইপি