পবিত্র ঈদুল-আজহা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ৫ দিন ছুটির ফাঁদে পড়েছে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল। এর ফলে বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দরের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়বে। সীমান্তের দুপাশের ট্রাকজট আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা। তবে এ ছুটিতে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে পাসপোর্টযাত্রী চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।
ভারত-বাংলাদেশ সিঅ্যান্ডএফ অ্যাজেন্টস ও বন্দর সূত্র জানায়, ২০ আগস্ট সোমবার বিকেল থেকে ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে। আগামী ২১,২২, ২৩ আগস্ট অথাৎ মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার ঈদের ছুটি। এর সঙ্গে ২৪ ও ২৫ আগস্ট শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি সে হিসেবে আগামী ২৬ আগস্ট রোববার থেকে বন্দরে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসবে। ওইদিন সকাল থেকে দু‘দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম চলবে।
এদিকে টানা ছুটির কারণে সীমান্তের দুপাশের বন্দরে ট্রাকজট আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। বেনাপোলের মতোই পেট্রাপোল বন্দরেও ট্রাকজট রয়েছে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, অনেক আমদানিকারক ঈদের ছুটিতে পরিবার পরিজন নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যাবেন। তারা ফিরে না আসা পর্যন্ত কোনো পণ্যও খালাস নিবে না। সব মিলিয়ে টানা ৫ দিন ছুটির ফাঁদে পড়তে যাচ্ছে দেশ।
ভারতের পেট্রাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক কার্ত্তিক চক্রবর্তী জানান, বেনাপোলের মতোই পেট্রাপোলেও ট্রাকজট রয়েছে। তিনি বলেন, বন্দরে স্থান সংকুলান না হওয়ায় বন্দরের ট্রাক টার্মিনাল, পেট্রাপোল পার্কিং ও বনগাঁও টার্মিনালে কয়েকশ পণ্য বোঝাই ট্রাক বেনাপোলে প্রবেশের জন্য অপেক্ষা করছে। দীর্ঘ ছুটির কারণে এসব পণ্য পেট্রাপোল থেকে বেনাপোল বন্দরে ঢুকবে ছুটি শেষে। এতে পেট্রাপোল বন্দরসহ বেনাপোল বন্দর এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হবে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (ট্রাফিক) আমিনুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন পেট্রাপোল বন্দর থেকে রফতানি পণ্য নিয়ে সাড়ে ২০০-২৫০ ট্রাক আসে বেনাপোল বন্দরে। আর বেনাপোল দিয়ে ১২০-১৫০ ট্রাক পণ্য যায় ভারতে। দেশের ৭৫ ভাগ শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাঁচা মালামালের পাশাপাশি বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য আসে এই বন্দর দিয়ে। ৫ দিন বন্ধের কারণে বন্দরে পণ্যজট তৈরি হবে।
বেনাপোল চেকপোস্ট পুলিশ ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, এ সময় একটু বেশি ভিড় হয়ে থাকে। সে কারণে ইমিগ্রেশনে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে।
মো.জামাল হোসেন/আরএ/পিআর