দেশজুড়ে

বন্ধুর বিয়েতে যাওয়াই কাল হলো আল-আমিনের

কোনো স্বপ্নই পূরণ হলো না জীবন সংগ্রামী আল-আমিন শেখের। অকালেই সবাইকে ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেল। বাবা মারা যাওয়ার পর মা ও একমাত্র ছোট ভাইকে নিয়ে ছোট্ট সংসারের হাল ধরে ছিলেন কাঠমিস্ত্রি আল আমিন শেখ (২২)। তার উপার্জনেই সংসার চলতো। নিজে পড়ালেখা না করে সংসারের হাল ধরেছিলেন। ইচ্ছে ছিল ছোট ভাইকে লেখাপড়া শিখিয়ে বড় করবে। কিন্তু কোনো স্বপ্নই পূরণ হলো না তার।

একসপ্তাহ আগে ঢাকায় কর্মস্থলে গিয়েছিল আল আমিন। বন্ধুর বিয়ে তাই ট্রেনে চড়ে বাড়িতে ফিরছিলেন। বাইপাস স্টেশনে স্টপেজ নেই, এটা হয়তো না জেনেই তিনি ট্রেনে চড়েছিল। যখন ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনে ট্রেনটি না থেমে চলে যাচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে চলন্ত ট্রেন হতে নামতে গিয়ে প্রাণ হারালো আল আমিন শেখ। সংসারে আয়ের একমাত্র ব্যক্তি চলে গেলো না ফেরার দেশে।

বুধবার সকালে ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনে চলন্ত ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে দ্বি-খণ্ডিত হয়ে মারা গেছেন অসহায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল কাঠমিস্ত্রি আল আমিন শেখ। অসহায় পরিবারকে এখন কে দেখবে? এই আর্তনাদ ও কান্নার আহাজারি চলছে পরিবারে।

এদিকে বড় ছেলেকে হারিয়ে মা সালমা বেগম বারবার মুর্ছা যাচ্ছেন। স্বামী আব্দুর রকিব খাঁনকে আট বছর আগে হারিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে বেঁচে ছিলেন তিনি। কিন্তু তাকে রেখে ছেলেও চলে গেলেন।

পাকশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাস জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। অসহায় পরিবারটিকে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ হতে সরকারিভাবে যে সুবিধা রয়েছে অসহায় পরিবারটিকে সে সহযোগিতা করা হবে। আর ছোট ছেলেটির পড়ালেখা যেন বন্ধ না হয়, আলোচনা করে সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।

আলাউদ্দিন আহমেদ/আরএ/পিআর