তীব্র গরম আর বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার মানুষের জনজীবন। গত কয়েক দিনে বিদ্যুতের লোডশেডিং বেড়েছে কয়েকগুণ। দিনে কম হলেও রাতের বেলা চার থেকে পাঁচ ঘণ্টায় লোডশেডিং হয়। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে জেলা শহরের লাখ মানুষ।
পাশাপাশি তীব্র গরমে তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ছে মানুষ। তৃষ্ণা নিবারণের জন্য শহরের বিভিন্ন স্থানে ডাব ও শরবত বিক্রি বেড়েছে। শ্রমজীবী মানুষদের দুর্ভোগ পৌঁছেছে চরম পর্যায়ে।
সাতক্ষীরা শহরের রাজ্জাক পার্কের শরবত বিক্রেতা সদরের কামালনগর এলাকার বাসিন্দা ইউনুস আলী বলেন, তীব্র গরমের কারণে শরবত বিক্রি বেড়েছে। তৃষ্ণা নিবারণের জন্য ঠান্ডা পানির সঙ্গে লেবুর রস ও লবণ দিয়ে তৈরি শরবত প্রতি গ্লাস পাঁচ টাকা বিক্রি করছি। গরমের সময় ঠান্ডা শরবত খেয়ে কিছুটা স্বস্তি পায় মানুষ।
সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকা শ্যামনগর উপজেলার বাসিন্দা ইমরান হোসেন বলেন, তীব্র রোদে মানুষের মুখ পুড়ে যাচ্ছে। পানির জন্য হাহাকার লেগে গেছে মানুষদের মাঝে। খরার তাপে গভীর নলকূপের পানিতে বেড়ে গেছে লবণাক্ততা। ঘের ও পুকুরের পানি উত্তপ্ত হয়ে মাছ মারা যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন।
এদিকে, ঘন ঘন বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছে সাতক্ষীরাবাসী। অফিসপাড়াতেও দেখা দিয়েছে ভোগান্তি। পড়ালেখা নিয়ে বিপাকে পড়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে ওয়েস্ট পাওয়ার জোন ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) লিমিটেডের সাতক্ষীরার আবাসিক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান বলেন, সাতক্ষীরায় বিদ্যুতের চাহিদা ১৭ মেগাওয়াট। আমরা পাচ্ছি ১৭ মেগাওয়াট। তবে কিছু স্থানে বিদ্যুতের লোডশেডিং হচ্ছে।
চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়ার পরও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, প্রিপেইড মিটার লাগানো, বিদ্যুতের খুঁটি স্থানাস্তর ও ত্রুটিপূর্ণ তার মেরামতের কারণে বিদ্যুতের লোডশেডিং হচ্ছে।
আকরামুল ইসলাম/এএম/পিআর