নির্ধারিত সময়ের এক মাস চলে গেলেও নেত্রকোনার ১০ উপজেলার মধ্যে ছয়টিতে এখনও সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়নি। গত ২০ নভেম্বর থেকে এই অভিযান শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৃহষ্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) পর্যন্ত কৃষকদের তালিকাই চূড়ান্ত করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। ফলে ধান কাটা শেষ হলেও শুরু হয়নি সরকারিভাবে ধান ক্রয় কার্যক্রম। এতে করে হতাশ জেলার কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষক ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার নেত্রকোনার ১০ উপজেলার ১৩টি খাদ্যগুদামে ১৩ হাজার ৫২ মেট্রিক টন আমন ধান সংগ্রহের কথা রয়েছে। এছাড়া ১১ হাজার ৫৮৯ মেট্রিক টন সিদ্ধ ও ২৩১ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহ করার কথা। গত ২০ নভেম্বর থেকে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরুর কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের একমাস পরও তাতে ব্যর্থ হয়েছে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়। ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত পূর্বধলায় মাত্র ৪ মেট্রিক টন ও কেন্দুয়ায় ১ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করা হয়েছে। এতে করে চরম বিপদে আছেন কৃষকরা।
বারহাট্টা, মোহনগঞ্জ, কেন্দুয়া ও পূর্বধলায় ধান সংগ্রহ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয়েছে। আর দুর্গাপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবু বক্কর সিদ্দিক, মদনের ইলিয়াস আহম্মেদ ও সদর উপজেলার জয়নাল আবেদিন জানান, ‘কৃষি বিভাগ যেদিন লটারির মাধ্যমে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করে খাদ্য বিভাগকে হস্তান্তর করবে, সেদিন বা তার পরদিন থেকেই তারা কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনতে পারবেন।’
জেলা কৃষি অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট উপজেলার কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি সুবিধাভোগী কৃষকদের তালিকা প্রায় শেষের দিকে। দ্রুতই খাদ্য বিভাগকে হস্তান্তর করা হবে।’
এদিকে, নির্ধারিত সময়ের একমাস পরও সরকারি ধান ক্রয় শুরু না হওয়ায় প্রান্তিক কৃষকরা স্থানীয় হাট-বাজার ও মহাজনদের কাছে কম মূল্যে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। দুর্গাপুরের গাভিনা গ্রামের কৃষক দীপক সরকার বলেন, এখন কৃষকের কাছে ধান আছে। কিন্তু আর কয়েক দিন পর এই ধান চলে যাবে মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়াদের হাতে। কারণ প্রান্তিক কৃষকরা মহাজনসহ বিভিন্নভাবে ঋণ নিয়ে ফসল ফলান। ফলে তারা মৌসুমের শুরুতেই ঋণ পরিশোধের জন্য ধান বিক্রি করতে বাধ্য হন।’
মদন উপজেলার বাগজান গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম জানান, ‘কষ্ট করে জমিতে ধান ফলালেও ন্যায্য মূল্য পাওয়া যায় না। এখন লটারিতে ভাগ্য নির্ধারণ করা হয় কৃষকের। এ গ্রামে দুইশ কৃষক থাকলেও লটারিতে ৫ থেকে ১০ জন কৃষক সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রি করতে পারেন। বাকিদের অবস্থা খুব খারাপ। কৃষিকাজ করে কোনো লাভ নেই।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুরাইয়া খাতুন বলেন, কৃষকের তালিকা চূড়ান্ত না হওয়ায় লটারি হয়নি। এ কারণে বেশ কয়েকটি উপজেলায় ধান কেনা শুরু করা যায়নি। তবে দ্রুতই শুরু হবে। এজন্য জেলায় মাইকিংসহ বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে। নেত্রকোনায় এবার প্রায় ১২ হাজারের মতো কৃষক সরকারের কাছে সরাসরি ধান বিক্রির সুযোগ পাবেন।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ হাবিবুর রহমান জানান, এ বছর নেত্রকোনায় মোট ১ লাখ ২৫ হাজার ১৪৯ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। চাষ হয়েছে তার চেয়ে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে (১ লাখ ৩৪ হাজার ৬২৫ হেক্টর)। যা থেকে প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার ৭৯ মেট্রিক টন চাল পাওয়া যাবে ।
কামাল হোসাইন/এমএমজেড/এমকেএইচ