ক্যাম্পাস

যুবলীগ নেতার সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতার হাতাহাতি!

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাহিত্য সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসিফ তালুকদারের সঙ্গে রাজধানীর এক ওয়ার্ড যুবলীগ নেতার হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ ঘটনা ঘটলেও মঙ্গলবার রাতে এ বিষয়টি জানাজানি হয়। তারপরই আসিফ তালুকদারের সঙ্গে এ ঘটনায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর হাতিরপুল কাঁচাবাজারের বিপরীত পাশে বলাকা ডেকোরেটারের সামনে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলছিলেন রাজধানীর যুবলীগের ৪নং ইউনিটের শীর্ষ পদপ্রত্যাশী রকিসহ আরও তিনজন। তাদের মধ্যে একজন ১৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফেরদৌস আলমের ছেলে সুজন।

এ সময় তাদের মধ্যে উচ্চ বাক্য বিনিময় হচ্ছিল। তাদের পাশেই তিন-চারজনের বেষ্টনীর মধ্যে ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা আসিফ তালুকদার। রকিসহ বাকিরা উচ্চস্বরে কথা বলায় আসিফ তাদেরকে কথা বলা বন্ধ করতে বলে। তারা কথা বলা বন্ধ না করলে হঠাৎ করেই আসিফ গিয়ে রকিকে ধরে সরিয়ে নিয়ে যায়।

এ সময় ছাত্রলীগ নেতা আসিফকে থামাতে রকির সঙ্গে থাকা দু’জন এগিয়ে আসলে আসিফ ফোন দিয়ে তার পরিচিত কয়েকজনকে নিয়ে আসে। আসার পর উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এতে যুবলীগ নেতা রকি কিছুটা আহত হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ব্যবসায়ী জানান, আসিফ রকিকে কলার ধরে টানাটানি শুরু করলে রকির সঙ্গে থাকা দু’জন আসিফের পরিচয় জানতে চায়। তখন আসিফ বলে, একটু অপেক্ষা কর! পা থেকে মাথা পর্যন্ত পরিচয় দেব তোদের কাছে। এরপর একজন আসিফের পরিচয় দেয় যে, তিনি ডাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক।

রকির সঙ্গীরা তখন আসিফের সঙ্গীদের জানায় যে, তারা ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানীর পরিচিত। কিন্তু গোলাম রাব্বানীর নাম নিতেই তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠে গালাগাল শুরু করে আসিফ। তখন রানার সঙ্গীরা জানায়, তারা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ফজলে নুর তাপসের রাজনৈতিক কর্মী, যুবলীগ করে।

তখন আসিফ বলে, তাপস কে, তাপসকে চিনি না! এরপর আসিফ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ছেলে সুজনকে ধাক্কা দিতে থাকে। এক পর্যায়ে আরও কয়েকজনকে নিয়ে এসে রানাকে মারধর করে। শুধু রানা নয়, হাতিরপুল কাঁচা বাজারের একজন মাছ বিক্রেতা, ঘটনাস্থলের পাশ্ববর্তী দোকানদারসহ অন্তত ৬ জন পথচারী এ সময় আসিফের সহযোগীদের হাতে মারধরের শিকার হয়।

উপস্থিত থাকা আরও এক ব্যক্তি বলেন, আসিফকে থামাতে গিয়ে তার মুখ থেকে মদের গন্ধ আসার টের পায়। এতে বুঝলাম সে মদ খেয়ে এসে এই মাতলামি করছে। আমরা বিষয়টি ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী, ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে জানিয়েছি।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা আসিফ তালুকদার বলেন, ‘আমি, আমার বন্ধু আর বন্ধুর বউ রাব্বানী ভাইয়ের সেলুনের সামনে যায়। সেখানে বন্ধুর বউ একটি কনফেকশনারির দোকানে কিছু কিনতে যায়। সে দোকানের সামনে কয়েকজন অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকে। আমি তখন তাদেরকে থামতে বলি। এ সময় তারা আমার ওপর ক্ষেপে যায় এবং আমার পরিচয় জানতে চায়। আমার বন্ধুর ভাইয়ের সামনে আমাকে এইভাবে কথা বলায় আমি বিষয়টি নিতে পারিনি। তখন বলছি আমি কে দেখবেন। এ সময় আশপাশে আমার চেনাপরিচিত কয়েকজন আসে। তাদের ব্যবহারে উত্তেজিত হয়ে যাওয়ার কারণে একটু হাতাহাতি হয়ে গেছে। বিষয়টা এখন সমাধান হয়ে গেছে’।

মদ্যপ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি মদ পান করি না। এত বছর ক্যাম্পাসে আমাকে নিয়ে কেউ এসব কথা বলতে পারেনি। তারা তাদের খারাপ কাজ ধামাচাপা দিতে আমাকে মদ্যপ বলে চালাচ্ছে। সে হিসেব করলে আমিও তাদেরকে আমার বন্ধুর বউকে উত্ত্যক্তকরণের কথা বলতে পারি। এটা শুধুমাত্র আমার এতদিনের ক্লিন ইমেজকে কুলশিত করার জন্য এ অপবাদ দিচ্ছে। আমাকে ব্যক্তিগতভাবে যারা জানে তারা সে বিষয়ে বলতে পারবে’।

এ বিষয়ে ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘ডাকসুর নেতা হিসেবে তার আরও সচেতন থাকা উচিত ছিল। নিজেকে একটু সংযত রাখা উচিত ছিল’।তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এমআরএম