কিশোরগঞ্জ শহরের পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া স্বর্ণালংকার ও রুপা নিলামে বিক্রি করা হয়েছে এক কোটি ১১ লাখ ১০ হাজার ১২০ টাকায়। বুধবার বিকেলে কিশোরগঞ্জ কালেক্টরেট এলাকায় দানবাক্সে পাওয়া ৪২০ ভরি স্বর্ণালংকার ও ১৮৮ ভরি রুপার অলংকার নিলামে বিক্রি করা হয়।
মসজিদের সিন্দুকে পাওয়া অলংকারগুলো পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে ২১ ভরি ওজনের ২১ ও ২২ ক্যারেট মানের বিদেশি স্বর্ণ প্রতিভরি ৩৯ হাজার ৪০০ টাকা, ৩১ ভরি দেশি স্বর্ণ প্রতিভরি ৩৬ হাজার ৩০০ টাকা, দেশি স্বর্ণের তৈরি ১৩১ ভরি ওজনের চাঁদ ও তারকা প্রতিভরি ৪০ হাজার ৫০০ এবং ২৩৭ ভরি ১০ আনা ওজনের নাকফুল প্রতিভরি ১৭ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়া ১৮৮ ভরি রুপার অলংকার বিক্রি হয় প্রতিভরি ৪০০ টাকা করে। আটজন ক্রেতা নিলামে অংশ নেন।
পাগলা মসজিদ ও ইসলামী কমপ্লেক্সের বিক্রয় উপ-কমিটির সভাপতি, কিশোরগঞ্জের শিক্ষা ও আইসিটি শাখার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান, সদস্য সচিব নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মীর মো. আল কামাহ তমাল, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদির ভূইয়া, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাসুদ খান, তারেক কামাল প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘নিলামে অংশগ্রহণকারী ক্রেতাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা করে নগদ জামানত রাখা হয়েছে। নিলামে সর্বোচ্চ দরপ্রস্তাবকারীদের আগামী সাতদিনের মধ্যে সব টাকা পরিশোধ করে স্বর্ণ ও রুপা বুঝে নিতে হবে।’
জানা গেছে, প্রতি তিন মাস পর পর পাগলা মসজিদের ছয়টি দানবাক্স খোলা হয়। প্রতিবার এসব সিন্দুক থেকে এক থেকে দেড় কোটি টাকা করে পাওয়া যায়। নগদ টাকা ছাড়াও এসব সিন্দুকে কিছু কিছু স্বর্ণ ও রুপার তৈরি অলংকার পাওয়া যায়। টাকাগুলো ব্যাংকে জমা রাখা হলেও অলংকার কালেক্টরেটের ট্রেজারিতে রাখা হয়। গত প্রায় তিন বছরে জমানো অলংকারগুলো এদিন নিলামে বিক্রি করা হলো।
নূর মোহাম্মদ/বিএ