অ্যাপেন্ডিক্স অপারেশন শেষে সুস্থ হয়ে রোববার (৪ জুলাই) বাড়ি ফিরেছে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল। ‘জাগো নিউজ’-এ সংবাদ প্রকাশের পর এক হৃদয়বানের সহায়তায় তার অপারেশন ও ওষুধের খরচের ব্যবস্থা হয়। গত বুধবার পাবনার একটি ক্লিনিকে তার অপারেশন সম্পন্ন হয়।
শিশু জান্নাতুল তার নানাবাড়ি পাবনা সদর উপজেলার জোতগড়ি জালালপুরে থাকে। বাবা-মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়েছে কয়েক বছর আগে। তারা এখন আলাদা সংসার করছেন। জান্নাতুলের আশ্রয়দাতা দরিদ্র নানা-নানীর পক্ষে তার চিকিৎসার ব্যয় মেটানো সম্ভব হচ্ছিল না। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, অপারেশন না করালে তার জীবনহানি হতে পারে।
‘জাগো নিউজ’-এ গত ১৬ জুন ‘জীবন থমকে যাওয়া জান্নাতুলের অপারেশন হবে ২৫ হাজার টাকা হলেই’ শীর্ষক একটি মানবিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর দেশ-বিদেশ থেকে বহু হৃদয়বান মানুষ জান্নাতুলের চিকিৎসাভার বহনের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তাদের মধ্যে আমেরিকা প্রবাসী তাসফিয়া শারমিন প্রমা প্রতিবেদনটি পড়ে দেশে থাকা আত্মীয় আবু সাঈদকে রোগীর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। তিনি ওই আত্মীয়ের মাধ্যমে জান্নাতুলের চিকিৎসাবাবদ ২০ হাজার টাকা (ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের খরচের হিসাব মতে) পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। সেই টাকায় বুধবার পাবনার একটি ক্লিনিকে তার অপারেশন সম্পন্ন হয়।
করোনার এই দুর্যোগের মধ্যেও জান্নাতুলের চিকিৎসায় সমন্বয়ের কাজটি করেন বিএমএ, পাবনা জেলা শাখার সেক্রেটারি ডা. আকসাদ আল-মাসুর আনন। তিনি বলেন, ক্লিনিকের খরচ সুপারিশ করে কিছুটা কমিয়ে দিয়ে অবশিষ্ট চার হাজার টাকা জান্নাতুলের অভিভাবকের হাতে দেয়া হয়েছে, যেন তারা অপারেশন-পরবর্তী সময়ে কিছু পথ্য কিনে দিতে পারেন। রোববার সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে জান্নাতুল।
তিনি আরও বলেন, জাগো নিউজ বরাবরের মতো আরও একটি মহতী কাজ করেছে। এজন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা রইল।
নানী আকলিমা খাতুন বলেন, যিনি আমার অসহায় নাতনির চিকিৎসার জন্য দূরদেশ আমেরিকা থেকে টাকা পাঠিয়েছেন, তাকে তো আমরা চিনি না। ভাবতেও পারিনি, আমার নাতনির চিকিৎসায় কেউ এভাবে টাকা দেবেন। আমরা গরিব মানুষ। তার জন্য শুধু দোয়া করি।
এছাড়া যারা জান্নাতুলের চিকিৎসায় অর্থ-সহায়তা দেয়ার জন্য যোগাযোগ করেছিলেন তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন নানী আকলিমা খাতুন।
জান্নাতুল জানায়, সে এখন সুস্থ। শারীরিক কোনো সমস্যা নেই। সেও সবার কাছে দোয়া কামনা করেছে।
‘স্কুল খুললে আগের মতো আবার স্কুলে যেতে পারব। পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা দিয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারব। যিনি আমার চিকিৎসায় টাকা পাঠিয়েছেন তাকে সালাম জানাই‘- বলে জান্নাতুল।
আমিন ইসলাম/এমএআর/এমকেএইচ