জীবন থমকে যাওয়া জান্নাতুলের অপারেশন হবে ২৫ হাজার টাকা হলেই

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ০৮:২৭ পিএম, ১৬ জুন ২০২০

প্রতিনিয়ত অ্যাপেনডিসাইটিসের ব্যথায় জীবন কাটছে ছোট শিশু জান্নাতুল ফেরদৌসের। কিন্তু অর্থের অভাবে থমকে গেছে তার চিকিৎসা। থমকে গেছে তার পারিবারিক পরিচয়ও। ইতোমধ্যে তার বাবা-মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে।

৪র্থ শ্রেণিতে পড়াশোনা করা জান্নাতুলের এক আত্মীয় পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আতাইকুলা ইউনিয়নের বামনডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম জানান, মেয়েটির দুঃখের শেষ নেই।

তিনি জানান, জান্নাতুলের বাবা মিন্টু খান বিয়ের পর থেকেই সংসারের প্রতি উদাসীন ছিলেন। স্ত্রী-সন্তানের দিকে তার কোনো খেয়াল ছিল না। সংসারে অভাব আর অশান্তি হাত ধরাধরি করে চলতো। একপর্যায়ে জান্নাতুলের মা রেখা খাতুনের সাথে তার ছাড়াছাড়িও হয়। এতে ভাগ্য রেখা বদলে যায় জান্নাতুলের।

মাসহ নানি বাড়ি পাবনা সদর উপজেলার জালালপুরে আশ্রয় জোটে তাদের। এরপর তার নানি বাড়ির লোকজন মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে রেখাকে (জান্নাতুলের মা) অন্যত্র বিয়ে দেন। তারপর থেকে নানি বাড়িই তার ঠিকানা।

এদিকে নানি বাড়িও দরিদ্রতার কষাঘাতে জর্জরিত। তারা দরিদ্রতার মাঝেও জান্নাতুলকে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করেছেন। সেখানে ৪র্থ শ্রেণিতে পড়ে সে। স্কুলে উপবৃত্তির টাকায় তার খাতা-কলমের পয়সা জোটে।

গত কয়েক মাস আগে থেকে জান্নাতুল মাঝে মধ্যেই অসহ্য যন্ত্রণায় কাতর হয়ে পড়ে। এতে ঝাড়, ফুঁক, পানি পড়াসহ টোটকা চিকিৎসা করেন স্বজনরা।

বাবা-মায়ের স্নেহবঞ্চিত শিশুটি অভাবি নানা বাড়িতেও ঠিকমতো চিকিৎসা পাচ্ছে না। কয়েক মাস আগে তার আত্মীয় আবুল কালাম পাবনা জেনারেল হাসপাতালে তাকে নিয়ে যান।

সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যায়, ব্যথা তার অ্যাপেনডিসাইটিসের। সেখানে কিছুদিনের ওষুধ দেন ডাক্তাররা। তারা বলেন, অপারেশনের কোনো বিকল্প নেই।

শিশু জান্নাতুলের ব্যাপারে কথা হয় পাবনা জেনারেল হাসপাতালের কনসালট্যান্ট এবং বিএমএ’র পাবনা জেলা শাখার সেক্রেটারি ডা. আকসাদ আল-মাসুর আননের সাথে।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, শিশুটির অ্যাপেনডিসাইটিসের অপারেশনটি দ্রুত করে ফেলাই ভালো। নতুবা বড় ধরনের জটিলতা এমনকি জীবন সংশয় হতে পারে।

এদিকে শিশুটির আত্মীয় আবুল কালাম বলেন, কোনো ক্লিনিকে তার অপারেশন, ওষুধ, শহরে থাকা-খাওয়াসহ অন্তত ২০-২৫ হাজার টাকা দরকার। এ টাকা জোগান দেয়ার মতো শিশুটির কেউ নেই।

কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি শিশুটির অপারেশনের দায়িত্ব নিলে রক্ষা পাবে তার জীবন। তার মনের যন্ত্রণাটা না কমলেও অন্তত শরীরের যন্ত্রণা থেকে সে মুক্তি পাবে।

সর্বশেষ আপডেট : সংবাদটি প্রকাশের পর দেশ-বিদেশ থেকে অনেকেই জান্নাতুলের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এরই মধ্যে ১৬ জুন চট্টগ্রামের একজন হৃদয়বান ব্যক্তি জান্নাতুলের অপারেশনের জন্য ২০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন।সেই টাকায় আগামী সপ্তাহের (২০ থেকে ২৫ জুনের মধ্যে) কোনো একদিন অপারেশন হবে তার। সেটিও আমরা জাগো নিউজের পাঠকদের জানিয়ে দেব। সবাই জান্নাতুলের জন্য দোয়া করবেন।

এমএএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।