রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের দৌলতদিয়া মডেল হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র মিরাজ খান (১৫) চারদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। এ অবস্থার সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে দেবগ্রাম ইউনিয়নের পদ্মানদীর তীরবর্তী কাওয়ালজানি এলাকায় মাটিতে পুঁতে রাখা এক কিশোরের বিকৃত পচা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে লাশটি বেশি বিকৃত হয়ে যাওয়ায় তাকে কেউ চিনতে পারছেন না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এলাকাবাসী ও মিরাজের পরিবারের সদস্যদের ধারণা, লাশটি নিখোঁজ স্কুল ছাত্র মিরাজের।
মিরাজ দেবগ্রাম ইউনিয়নের উত্তর চরপাচুরিয়া গ্রামের সিরাজ খানের ছেলে।
মিরাজের বাবা জানান, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে মিরাজের মোবাইলে ফোন আসে। তখন সে তাড়াতাড়ি করে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। তারপর থেকে সে নিখোঁজ এবং ওর মোবাইল ফোনটিও বন্ধ।
এ অবস্থায় পরদিন গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি। পরে নিকটাত্মীয়সহ সম্ভাব্য বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও ছেলের সন্ধান পাইনি সিরাজ খান। আজ (গতকাল) পাওয়া লাশটি দেখে চেনা না গেলেও, ধারণা করছেন এটি তার ছেলে মিরাজ।
দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাফিজুল ইসলাম জানান, কয়েকদিন ধরে তার ইউনিয়নের বাসিন্দা মিরাজ নামে এক ছেলে নিখোঁজ রয়েছে। সোমবার দুপুরে কাওয়ালজানি পদ্মানদীর পাড় থেকে মাটিতে পুঁতে রাখা একটি লাশটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের ধারণা, এটি নিখোঁজ মিরাজের লাশ।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর জানান, উদ্ধার হওয়া লাশটির ডান হাতের মাংস অনেকটা বিচ্ছিন্ন এবং বাম হাতের কব্জি কাটা। এছাড়া পিঠের দিকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের কয়েকটি চিহ্ন রয়েছে।
তিনি বলেন, মাটির মধ্যে উপুড় করে পুঁতে কলাগাছ দিয়ে চাপা দিয়ে রাখা ছিল লাশটি। ফুলে ও পচে লাশটি বিকৃত হয়ে গেছে। দেখে চেনার উপায় নেই। যে কারণে উদ্ধারের পর কেউ তাকে শনাক্ত করতে পারেনি।
গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান জানান, ধারণা করা হচ্ছে লাশটি নিখোঁজ স্কুল ছাত্র মিরাজের এবং মিরাজের পরিবারের দাবি, লাশটি তাদের ছেলের।
তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি রাজবাড়ীর মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ টেস্ট করানো হবে। এছাড়া ময়নাতদন্ত শেষে লাশটি মিরাজের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও তিনি জানান।
রুবেলুর রহমান/এসআর