দেশজুড়ে

বেনাপোল কাস্টমসের সোনা চুরি : রাজস্ব কর্মকর্তার জবানবন্দি

যশোর বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ভোল্ট থেকে সোনা চুরির মামলায় আটক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শাহিবুল সরদার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

এতে তিনি জানান, বিভিন্ন সময় ভোল্টের ইনচার্জের দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারা চাবি নিয়ে তাদের বাড়িতে যেতেন। তাদের মতো তিনিও ভোল্টের চাবি নিয়ে প্রায় বাড়ি যেতেন। তবে কখন কোনো কর্মকর্তার কাছে থাকা চাবি নিয়ে কে বা কারা ডুপ্লিকেট চাবি তৈরি করে ভোল্ট থেকে সোনা চুরি করেছেন তা তিনি জানেন না। কিন্তু তিনি নির্দোষ।

গত বুধবার (৯ ডিসেম্বর) সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শম্পা বসু শাহিবুল সরদারে জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন তিনি।

আটক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শাহিবুল সরদার রাজবাড়ির বালিয়াকান্দি উপজেলার বাঁধুলী গ্রামের খালপাড়া এলাকার মৃত জালাল সরদারের ছেলে। গত মঙ্গলবার সিআইডি পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তার দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। কিন্তু রিমান্ডের একদিন পরই তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি জবানবন্দি প্রদান করেন।

জবানবন্দিতে শাহিবুল সরদার আরও জানান, বেনাপোল কাস্টমস হাউসের পুরাতন ভবনের দ্বিতীয় তলার গোডাউনের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এই গোডাউনের বিভিন্ন ভোল্টে সোনা ও বিদেশি মুদ্রা সংরক্ষিত ছিল। দুই মাস আগে তিনি গোডাউনের দায়িত্ব বুঝে নিয়েছিলেন আগের কর্মকর্তার কাছ থেকে। কাগজপত্র অনুযায়ী ভোল্টের মালামালও বুঝে নেন। আগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা গোডাউন ও ভোল্টের চাবি বাড়ি নিয়ে যেতেন। তাদের মত তিনিও গোডাউনের চাবি বাড়িতে নিয়ে যেতেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বরের রাত ৮ টা থেকে ১১ নভেম্বর সকাল ৮টার মধ্যে যেকোনো সময় বেনাপোল কাস্টমস হাউসের পুরাতন ভবনের দ্বিতীয় তলার গোডাউনের তালা ভেঙে ভোল্টের ভেতর থেকে ১৯ কেজি ৩১৮ দশমিক ৩ গ্রাম সোনা চুরি যায়। যার মূল্য ১০ কোটি ৪৩ লাখ ১৭ হাজার ৩৬২ টাকা। এই ভোল্টের চাবি সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শাহিবুল সরদারের কাছেই থাকতো।

এ ছাড়া গোডাউনের বিভিন্ন লকারে সোনাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র থাকলেও সেগুলো অক্ষত ছিল। তবে সোনা চুরির সময় সিসি ক্যামেরা বন্ধ ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে কাস্টম হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা এমদাদুল হক অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর বেনাপোল পোর্ট থানায় একটি মামলা করেন।

একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষ গোডাউন ইনচার্জ শাহিবুলকে সাময়িক বরখাস্ত করে। এরপরই পুলিশ তাকে এই মামলায় আটক করে। মামলার কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় ২৭ নভেম্বর সিআইডি’র কাছে মামলা হস্তান্তর করা হয়।

যশোর সিআইডির পুলিশ সুপার রেশমা খাতুন জানান, এক বছরের অধিক সময় তদন্ত এ মামলার তদন্ত চলছে। অবশেষে ভোল্ট ইনচার্জ শাহিবুল সরদারের জবানবন্দিতে তদন্তে আরও গতি বাড়বে।

বেনাপোল বন্দরের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, চুরির ঘটনা কাস্টমসের ভেতর থেকেই ঘটানো হয়েছে। চোরেরা আগে থেকেই দীর্ঘদিন পরিকল্পনা করে এ ধরনের চুরি করার সাহস পেয়েছে। কারণ, চুরির সময় গোটা কাস্টম হাউসের সিসি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়। সিসি ক্যামেরার কন্ট্রোল রুম থেকে কীভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলো আর ডুপ্লিকেট চাবি ব্যবহার করে কীভাবে স্বর্ণ লুট হলো, সেটাই এখন তদন্ত কর্মকর্তাদের দেখা উচিত।

মো. জামাল হোসেন/এসজে/জেআইএম