দেশজুড়ে

দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ১০

বগুড়ার গাবতলী পৌর নির্বাচনে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও গাবতলী উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ কারণে ওই এলাকায় পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। তবে পুলিশের টহল জোরদার থাকা অবস্থায় শনিবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে আবারও মারপিটের ঘটনা ঘটেছে।

৩০ জানুয়ারি গাবতলী পৌর নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। ১১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ। তবে এর আগেই এলাকায় নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা তুঙ্গে উঠেছে। নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দুই কাউন্সিলর প্রার্থী যুবদল নেতা সোহেল রানা (বর্তমান কাউন্সিলর) ও জাতীয় পার্টির গোলাম রব্বানী রতনের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। গোলাম রব্বানী রতন গাবতলী উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক। তবে নিজেদের দলীয় প্রার্থী না থাকায় স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগ তাকে সমর্থন জানিয়েছে।

এ বিষয়ে বর্তমান কাউন্সিলর সোহেল রানা বলেন, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ইমরান হোসেন নামে আমার এক সমর্থককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মারধর করে গোলাম রব্বানী রতনের সমর্থকরা। এ খবর জানতে পেরে আমার সমর্থকরা ইমরানকে উদ্ধার করতে গেলে রব্বানীসহ তার সমর্থকরা পুনরায় তাদের ওপর হামলা করে। হামলায় আমার ৫-৬ জন সমর্থক আহত হয়। আহতদের মধ্যে তিনজন গুরুতর আহত হয়ে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। শনিবার বিকেলেও আমার এক সমর্থকের ওপর হামলা করা হয়েছে। সরকারি দলের সমর্থন নিয়ে এই অরাজকতার সৃষ্টি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনকে মৌখিক ভাবে জানানো হয়েছে।

কাউন্সিলর প্রার্থী গোলাম রব্বানী রতন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শুক্রবার রাতে প্রথমে আল-আমিন নামে আমার এক সমর্থককেই মারপিট করে সোহেল রানার সমর্থকরা। এরপর সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে পুনরায় আমার সমর্থকদের ওপর হামলা করে। এতে চার-পাঁচজন গুরুতর আহত হন। এছাড়া শনিবার বিকেলে আমার সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা করে ভাঙচুর করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনকে ঘটনা মৌখিক ভাবে জানানো হয়েছে।

গাবতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরুজ্জামান বলেন, ওই এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। দুই প্রার্থীকেই ডাকা হয়েছে। রোববার (১০ জানুয়ারি) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তাছাড়া এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ করেনি।

এমএইচআর/জেআইএম