দেশজুড়ে

তিনি পেটালেন অটোচালককে, ধাক্কা দিয়ে ফেললেন পুলিশ সদস্যকে

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে অটোরিকশার সঙ্গে ধাক্কা লাগায় অটোচালককে বেধড়ক পিটিয়েছেন এক চিকিৎসক। অটোচালককে উদ্ধারে এগিয়ে এলে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মাসুদ রানার বিরুদ্ধে এ মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

লাঞ্ছনার শিকার ট্রাফিক পুলিশ সদস্যের নাম সাইফুল ইসলাম। তিনি গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের এটিএসআই। আহত অটোচালকের নাম নাসির। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাসপাতালের ডিউটি শেষে ডা. মাসুদ রানা নগরীর আরিচপুর জামাই বাজার এলাকায় তার বাসায় ফিরছিলেন। এসময় হাসপাতাল ফটকের সামনে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে তার ধাক্কা লাগে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ডা. মাসুদ রানা রিকশাচালক হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে বেধড়ক মারধর করতে থাকেন। একপর্যায়ে বালুতে ফেলে দিয়ে ডা. মাসুদ ওই অটোচালকের মাথায় পা দিয়ে চেপে ধরে রাখেন। এই দৃশ্য দেখে ঘটনাস্থলের কাছে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের এটিএসআই সাইফুল ইসলাম এগিয়ে আসলে ডা. মাসুদ উত্তেজিত হয়ে পুলিশ সদস্যকেও ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। একপর্যায়ে ওই পুলিশ সদস্যকেও কিলঘুষি মেরে আহত করেন। মুহূর্তে খবরটি পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে ট্রাফিক পুলিশ ও টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

মারধরের বিষয়ে অটোচালক নাসির বলন, ‘আমার অটোরিকশার সঙ্গে ধাক্কা লেগে ডা. মাসুদ রানা পড়ে যান। পরে আমি তার কাছে ক্ষমা চাইলেও তিনি আমাকে জোরপূর্বক গেঞ্জির কলার চেপে ধরে হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। তিনি আমাকে বালির মধ্যে ফেলে দিয়ে পা দিয়ে মাথা চেপে ধরলে আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে।’

ট্রাফিক পুলিশের এটিএসআই সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘একটি বাচ্চা ছেলেকে নির্মমভাবে পেটানো দেখে আমি এগিয়ে গিয়ে ডা. মাসুদ রানাকে শান্ত করার চেষ্টা করি। এসময় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে ধাক্কা মেরে রাস্তায় ফেলে দেন। তার উপর্যুপরি কিলঘুষিতে আমার ইউনিফর্ম ছিঁড়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আমাকে উদ্ধার করেন।’

এ ব্যাপারে ডা. মাসুদ রানা বলেন, ‘আমি রিকশাচালককে মারধর করা অবস্থায় হঠাৎ পুলিশ সদস্য সাইফুল এসে আমাকে তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। পরে আমি তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেই।’

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাভেদ মাসুদ জানান, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। যেহেতু উভয়ে সরকারি কর্মচারী তাই সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

আমিনুল ইসলাম/এসআর/এমকেএইচ