দেশজুড়ে

পুলিশ ফাঁড়িতে দেয়া উপহারের সেই ফ্রিজ ফিরিয়ে দিলেন এসপি

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় পুলিশ ফাঁড়িকে উপহার হিসেবে চেয়ারম্যান প্রার্থীর দেয়া সেই ফ্রিজ ফিরিয়ে দিলেন পুলিশ সুপার (এসপি)। একই সঙ্গে, জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ওই পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের হাতে তুলে দেন নতুন একটি ফ্রিজ।

এরআগে বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) অনলাইন পত্রিকা জাগোনিউজ২৪.কম-এ ‘নাটোরে পুলিশ ফাঁড়িকে ফ্রিজ উপহার দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী!’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

ওই সংবাদে বলা হয়, নাটোরের বাগাতিপাড়ায় জামনগর ইউনিয়নের পকেটখালি পুলিশ ফাঁড়িকে একটি ফ্রিজ উপহার দিয়েছেন জামনগর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী জোবায়দা খাতুন মিলি। বুধবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় জামনগর পুলিশ ফাঁড়িতে সিঙ্গার কোম্পানির এই ফ্রিজটি বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক গ্রহণ করেন।

ফ্রিজটি উপহার দেয়া প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী জোবায়দা খাতুন বলেন, ‘বাগাতিপাড়ার জামনগরের মেয়ে আমি। রাজশাহীতে লেখাপড়া করার উদ্দেশ্যে জামনগরের পকেটখালি নামে পরিচিত যে স্থানে বর্তমানে পুলিশ ফাঁড়ি রয়েছে সেখান দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করতে হতো আমাকে। সেই স্থানে একসময় সন্ধ্যা নামলেই শুরু হতো ছিনতাইকারীদের তাণ্ডব। ছিনতাইয়ের পাশাপাশি অনেককেই করা হতো আঘাত। আজও অনেকেই সেই আঘাতের চিহ্ন বহন করে বেড়াচ্ছেন। এখন সেখানে পুলিশ ফাঁড়িটি হওয়ায় মানুষ ওই স্থান দিয়ে নির্ভয়ে যাতায়াত করতে পারছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ ফাঁড়িটি আবাসিক হওয়ায় পুলিশ সদস্যদের সেখানেই থাকতে হয় দিনের পর দিন। তবে ফাঁড়িতে কোনো ফ্রিজ না থাকায় পুলিশ সদস্যদের সমস্যাগুলো নিজ থেকে অনুধাবন করতে পেরে তাদেরকে একটি ফ্রিজ উপহার হিসেবে দিয়েছি।’

রাতে ছবিটি ফেসবুকের ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। জাগো নিউজে সংবাদটি প্রকাশিত হলে তা পুলিশ সুপারের দৃষ্টিতে আসে। রাতেই তিনি নাটোর প্রতিনিধিকে বলেন, ‘পুলিশ উপহার বা উপঢৌকন নিবে কেন? তার নিজেরেই স্টকে ফ্রিজ রয়েছে। ওরা জানালেই আমি দিতে পারতাম।’

এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (২৬ মার্চ) দুপুরে জাগো নিউজের প্রতিবেদককে সঙ্গে নিয়ে জামনগর পুলিশ ফাঁড়িতে আসেন পুলিশ সুপার (এসপি) লিটন কুমার সাহা। এসময় তিনি ফ্রিজদাতা জোবায়দা খাতুন মিলিকে ডেকে ফ্রিজ দেয়ার কারণ জানতে চান।

মিলি জানান, ২০০৫ সালে এই ফাঁড়ির সামনে তিনি দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন। এখন এই ফাঁড়ি স্থাপিত হওয়ায় এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তাই খুশি হয়ে পুলিশ সদস্যদের ফ্রিজটি উপহার দিয়েছেন তিনি। পুলিশ সুপার তার উপহার প্রত্যাখ্যান করেন ও একটি ভ্যানে তুলে সেটি মিলি দম্পতির বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

এদিকে, ফ্রিজ দেয়ার ঘটনায় সংবাদ প্রকাশ করায় পুলিশ সুপারের সামনেই বিক্ষুদ্ধ আচরণ করেন জোবায়দা খাতুন মিলির স্বামী। মিলিও উদ্ধত কণ্ঠে জানান, তিনি আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী। তাই তিনি ইচ্ছা করলেন পুলিশ বা জনগণকে যে কোনো কিছু দিতে পারেন।

বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক উপহারের ফ্রিজটি গ্রহণ করার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন।

একই সঙ্গে, পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জাগো নিউজের সাংবাদিকতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘জাগো নিউজ ঘটনাটি তুলে ধরে পুলিশের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে সহায়তা করেছে। মানুষের মাঝে পুলিশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা যাতে প্রতিষ্ঠিত না হয়, আমরা সর্বদা সেই চেষ্টা করে যাব। পুলিশ কখনো জনগণকে প্রদত্ত নিরাপত্তা সেবার কোনো বিনিময় গ্রহণ করে না।’

রেজাউল করিম রেজা/এসআর/জেআইএম