দেশজুড়ে

বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ডিম ফুটে একে একে বেরিয়ে এল ৮০টি সাপ

বন বিভাগের ইতিহাসে এই প্রথম বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে নিবিড় পরিচর্যায় উদ্ধারকৃত ঢোঁড়া সাপের ডিম থেকে বাচ্চা সাপ জন্ম নিয়েছে।

গত ৮ এপ্রিল গাজীপুর কালিয়াকৈর ওয়ালটন কারখানা থেকে প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে সাপের ডিমগুলো উদ্ধার করেন জুনিয়র ওয়াইল্ড লাইফ স্কাউট মো. সাদেকুল ইসলাম। পরে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিচালক এ এস এম জহির উদ্দিন আকনের (সিএফ) নির্দেশে সাপের ডিমগুলো পরিচর্যার জন্য শেখ কামাল ওয়াইল্ড লাইফ সেন্টারে পাঠানো হয়।

শেখ কামাল ওয়াইল্ড লাইফ সেন্টারের হারপেটোলজিস্ট মো. সোহেল রানা জানান, তার তত্ত্বাবধানে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় শেখ কামাল ওয়াইল্ড লাইফ সেন্টারে ১৩৮টি ডিম ফোটানোর জন্য গত ৯ এপ্রিল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পরে ২১ তারিখ প্রথমে ডিম থেকে চারটি সাপের বাচ্চা বের হয়। পরে একে একে সর্বমোট ৮০টি সাপের বাচ্চা ডিম থেকে ফুটে বের হয়।

তিনি আরও বলেন, ঢোঁড়া সাপ হলুদাভ বা সবুজ মেশানো হলুদ আর কালো রঙের। পিঠের দিক দাবার ছকের মতো। চোখ থেকে চোয়ালের ধার এবং চোখের পেছন থেকে দুটি কালো দাগ দু’পাশে নেমে গেছে। মাথা এবং চোখ বেশ বড়। দেহের আঁশ শিরতুলা। পেটের দিক খুবই উজ্জ্বল এবং সাদা রঙের।

পুরুষ ঢোঁড়া সাপ লম্বায় ৯৯ সেন্টিমিটার এবং স্ত্রী সাপ ১২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এরা নির্বিষ। মাছ এবং ব্যাঙ এদের প্রধান খাবার। এরা ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে কৃষকের উপকার করে। শীতকাল ছাড়াও বছরের অন্য সময় ঢোঁড়া সাপ ডিম দিয়ে থাকে।

ঢাকা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের জাতীয় উদ্যান রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. কাজী নাজমুল হক জানান, সোমবার (২৬ এপ্রিল) বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিচালক এ এস এম জহির উদ্দিন আকন উদ্যানের লেকে বাচ্চা সাপগুলো অবমুক্ত করেন।

মো. আমিনুল ইসলাম/এসআর/জিকেএস