দেশজুড়ে

কোম্পানীগঞ্জে অতিরিক্ত র‌্যাব-পুলিশ মোতায়েন

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সহিংসতার আশঙ্কায় অতিরিক্ত র‌্যাব-পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

রোববার (১৬ মে) সকাল থেকে বসুরহাট বাজার ও পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তল্লাশি করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি ঈদ পুনর্মিলনীর অনুষ্ঠানের ঘোষণার পর এমন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জিয়াউল হক মীর দুপুরে জাগো নিউজকে বলেন, র‌্যাব-১১ এর উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) বোরহান উদ্দিনের নেতৃত্বে র‌্যাবের ১৬ জনের একটি টিম ও দুইজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে কাজ করছেন।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি জানান, রোববার পুলিশ লাইন্স থেকে ৪০ জন অতিরিক্ত পুলিশ আনা হয়েছে। এনিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সামিম কবিরসহ দুই শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে নোয়াখালী গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক মো. রবিউল হক জানান, তিনিসহ ১০ জন ডিবি সদস্য কোম্পানীগঞ্জ এলাকায় সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। দাগি আসামি গ্রেফতার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তারা বিভিন্ন এলাকায় চষে বেড়াচ্ছেন।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে বসুরহাটে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। রাস্তাঘাটে যানবাহন ও লোকজনের চলাচল ছিল অনেক কম। রোববার বাজারের দিন হলেও দোকানপাট তেমন খুলতে দেখা যায়নি।

এর আগে, বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার অনুগতরা রোববার (১৬ মে) পৌরসভা মিলনায়তনে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের ডাক দেয়। পাশাপাশি প্রতিপক্ষ উপজেলা আওয়ামী লীগও একই সময় বসুরহাট জিরো পয়েন্টে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়।

এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল জাগো নিউজকে জানান, রোববার সকালে উপজেলা আওয়ামী লীগের জরুরি বৈঠকে পরবর্তী কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

গণমাধ্যমে পাঠানো উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, শনিবার (১৫ মে) রাতে চরকাঁকড়া ইউনিয়নে শান্তিপূর্ণ ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে পুলিশের হামলা ও ছাত্রলীগ নেতা নজরুল ইসলাম ফয়সালকে গ্রেফতারের নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানানো হয়। একই বিজ্ঞপ্তিতে আবদুল কাদের মির্জার ‘অপরাজনীতি’ বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনায় গণভবনের সামনে অনশন ও জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেয়া হয়।

প্রসঙ্গত, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বসুরহাটের মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছে। ইতোমধ্য দুপক্ষের সংঘর্ষে একজন সাংবাদিকসহ দুজন মারা গেছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরনবী চৌধুরীসহ শতাধিক নেতা আহত হন। অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী কারাগারে।

আরএইচ/জেআইএম