দেশজুড়ে

বালিশচাপায় ভাতিজিকে হত্যা

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে সানজিদা বেগম (১৬) নামের এক মাদরাসাছাত্রীকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার চাচার বিরুদ্ধে।

বুধবার (৯ জুন) বিকেলে উপজেলার সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের সৈয়দপুর গোয়ালগাঁও (হাজী বাড়ি) গ্রাম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত সানজিদা একই গ্রামের শয়ফুল ইসলামের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মাদরাসার ৮ম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (৮ জুন) রাতে খাওয়াদাওয়া শেষে নিজ ঘরে ঘুমাতে যায় সানজিদা। রাতের কোনো একসময় তার চাচা রবিউল ইসলাম (৪০) ঘরে প্রবেশ করে তাকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়ে যান। বুধবার সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হওয়ায় ঘরের ভেতরে ঢুকে তার মরদেহ বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেন পরিবারের সদস্যরা।

পরে খবর দিলে দুপুরে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। বিকেলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতের পরিবার জানায়, শয়ফুল ইসলামের চার ভাইয়ের মধ্যে এক ভাই যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। ওই প্রবাসী ভাই নিঃসন্তান হওয়ায় শয়ফুলের মেয়ে সানজিদাকে তিনি নিজের মেয়ের মতো দেখতেন ও সংসারের ভরণপোষণের টাকা তার কাছে পাঠাতেন।

এ নিয়ে ভাই রবিউল ইসলামের সঙ্গে শয়ফুলের বিরোধ চলছিল। রবিউল চাচ্ছিলেন সানজিদাকে না দিয়ে তার পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিবেন প্রবাসী ভাই।

কিছুদিন আগে এসব নিয়ে বিরোধের জেরে রবিউল তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে চলে যান। পরে বাড়িতে ফিরে সানজিদাকে হত্যা করেন তিনি।

নিহতের বড় ভাই হাম্মাদ আহমদ বলেন, ‘আমাদের ধারণা, চাচাই আমার বোনকে হত্যা করে পালিয়েছেন।’

নিহতের মা সৈয়দা ছালেহা বেগম বলেন, ‘ঘাতক আমার মেয়েকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করেছে।’

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী জগন্নাথপুর থানার ওসি (তদন্ত) মোছলেহ উদ্দিন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরোধে মেয়েটিকে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সুনামগঞ্জ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

লিপসন আহমেদ/এসএমএম/এএসএম