দেশজুড়ে

টুটুল হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৩

বগুড়ার শেরপুরে ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান চালক এমরান হোসেন টুটুল (২৬) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। সেই সঙ্গে ঘটনার মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শনিবার (২৬ জুন) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম।

গ্রেফতাররা হলেন- উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের গুয়াগাছি গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে সেলিম রেজা (২৫), একই ইউনিয়নের শরীফ সুঘাট গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন শেখের ছেলে সবুজ আলী শেখ (৩৬) ও পাশ্ববর্তী ধুনট উপজেলার নাগেশ্বরগাতী গ্রামের আবেদ আলীর ছেলে মাজেম আলী সরকার (৪৫)।

ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতারকৃতদের শনিবার (২৬জুন) বগুড়ার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন ঘাতক সেলিম রেজা।

জবানবন্দির বরাত দিয়ে ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, সংসারে অভাব-অনটনের কারণে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন সেলিম রেজা। তাই একটি অটোভ্যান ছিনতাই করে বিক্রির পরিকল্পনা করেন। এজন্য এলাকার সবুজ আলী শেখের সঙ্গে আলোচনা করেন। এসময় সেলিম রেজা ভ্যান আনলে তা বিক্রির দায়িত্ব নেন সবুজ। মূলত এরপরই অটোভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে মাঠে নামেন সেলিম রেজা। একপর্যায়ে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার পাঁচগাছি গ্রামের এক বন্ধু এমরান হোসেন টুটুলের অটোভ্যান ছিনিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করেন। সে মোতাবেক ১ মে সকালে কাজীপুর উপজেলার সোনামুখি বাজারে যান সেলিম রেজা। এরপর তিনশ টাকায় ভ্যানটি ভাড়া নিয়ে শেরপুর উপজেলায় আসেন।

পরে নেশা করার কথা বলে খানপুর দহপাড়ার ফাকা মাঠের মধ্যে নিয়ে যায়। সেখানে কৌশলে সেলিম ড্যান্ডি (গাম আটা) দিয়ে এমরান হোসেন টুটুলকে নেশা করায়। এরইমধ্যে সন্ধ্যা হলে ঘাতক সেলিম রেজা ভ্যান চালক টুটুলের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর অটোভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘাতক সেলিম অত্যান্ত টাউট প্রকৃতির হওয়ায় ঘটনার পরপরই ছিনতাই করা ভ্যানটি সবুজ আলী শেখের কাছে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি করে আত্মগোপন করেন। সবুজ আলী শেখ ভ্যানটি মাজেম আলীর কাছে তের হাজার টাকায় বিক্রি করেন।

পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ঘটনার একদিন পর ২ মে স্থানীয়দের খবরে এমরান হোসেন টুটুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতদের আসামি করে থানায় হত্যা মামলা হয়। টানা দুইমাস অনুসন্ধানের পর শুক্রবার (২৫ জুন) রাতে ঢাকার সাভার থেকে মূলহোতা সেলিম রেজাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার তথ্যানুযায়ী সবুজ আলী শেখ ও মাকেজ আলী সরকারকে তাদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় মাকেজ আলীর বাড়ি থেকে খোয়া যাওয়া অটোভ্যানটিও জব্দ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এএইচ/জিকেএস