দেশজুড়ে

৩ বছরের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে পোশাক কারখানার কর্মচারীদের বিক্ষোভ

তিন বছরের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে বুধবার (১৪ জুলাই) কর্মবিরতি পালন ও বিক্ষোভ করেছেন গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা ঢাকা-গাজীপুর সড়ক প্রায় ৯ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন।

আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, গাজীপুর মহানগরীর বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) সামনে লক্ষীপুরা এলাকায় অবস্থিত ‘স্টাইল ক্র্যাফ্ট’ নামের পোশাক কারখানায় প্রায় সাড়ে ৭শ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক রয়েছেন। কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলতি বছরের মার্চ, মে ও জুন মাসসহ গত সেপ্টেম্বর মাসের পূর্ণ বেতন-ভাতাসহ ২০১৯ সালের ডিসেম্বর, ২০২০ সালের মার্চ ও আগস্ট মাসের শতকরা ৫০ ভাগ, অক্টোবর মাসের ৩৫ ভাগ, নভেম্বর মাসের ১৫ ভাগ বেতন পাওনা রয়েছে।

তারা আরও জানান, কর্মচারীদের ইনক্রিমেন্টসহ চার বছরের বাৎসরিক ছুটির ও দুই বছরের ঈদ বোনাসের টাকা পাওনা রয়েছে। তারা বেশ কিছুদিন ধরে এসব পাওনাদি পরিশোধের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাওনাদি পরিশোধের একাধিকবার তারিখ ঘোষণা করলেও পরিশোধ করেনি।

গত ৭ জুলাই শুধু তিন মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য ১৫ জুলাই তারিখ ঘোষণা করে মালিকপক্ষ। এতে শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের পাওনাদি পরিশোধের দাবিতে গত ৬ জুলাই থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করে করে আসছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্টাইল ক্র্যাফ্ট পোশাক কারখানার শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বুধবার সকাল আটটার দিকে কারখানায় আসেন। কিন্তু কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ দিলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা (অফিস স্টাফ) কাজে যোগ না দিয়ে সাড়ে আটটার থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন। এসময় তারা কারখানার ভেতরে ও গেটে অবস্থান নিয়ে পাওনা চার মাসের পূর্ণ বেতন-ভাতাসহ গত তিন বছরের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকেন।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তারা কারখানার সামনে ঢাকা-জয়দেবপুর সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন। এসময় কাঠের চৌকি ফেলে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অবরোধের কারণে সড়কের উভয়দিকে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তারা সড়ক থেকে সরে যান।

এদিকে গাজীপুরের শ্রীপুরে জুন মাসের বকেয়া, চলতি অর্ধমাসের বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বৈরাগীরচালা লাক্সমা ইনওয়্যার লিমিটেডের শ্রমিকরা।

শ্রীপুর শিল্প পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার রুহুল আমিন বলেন, বিজিএমইএর নির্দেশনা মোতাবেক শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ করার জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আশা করছি খুব দ্রুতই একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে।

আমিনুল ইসলাম/এসআর/এমএস