গাজীপুরের কালীগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নাগরী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সমর্থকদের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৪ জুলাই) উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের শহীদ ময়েজউদ্দিন চত্বর এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার রায়েরদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ঈদ উপহার বিতরণ কার্যক্রমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও স্থানীয় এমপি মেহের আফরোজ চুমকি। তিনি অনুষ্ঠানস্থলে আসার সময় শহীদ ময়েজউদ্দিন চত্বর এলাকায় অভ্যর্থনা জানাতে যান স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) সেলিম মিয়া এবং সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত আব্দুল কাদিরের ছেলে অর্ণব ও আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি। এসময় তারা বর্তমান চেয়ারম্যান অলিউল ইসলাম অলির সমর্থিত লোকদের ওপর দেশীয় অস্ত্রে সুসজ্জিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় বড়কাউ গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে কবির মিয়া (৪৫) ও শামীম (৩০), মৃত জমির ফকিরের ছেলে সুরুজ মিয়া (৬৫), মৃত জহুর উদ্দিনের ছেলে শুক্কুর আলী (৬৫), কামাল হোসেনের ছেলে লিমন মিয়া (১৮) ও গোলজার হোসেনের ছেলে লিসান (১৮) গুরুতর আহতসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। আহতরা কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন।
গুরুতর আহত কবির মিয়া বলেন, আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথিকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য আমরা শহীদ ময়েজউদ্দিন চত্বরে উপস্থিত হই। এসময় একই জায়গায় মুজিবুর, সেলিম মেম্বার, অর্ণব এবং আরও কিছু বহিরাগত লোকজন উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ করে কিছু বুঝে ওঠার আগেই পার্শ্ববর্তী গ্রামীণ বিলাস ও পাগলা বাবুর্চি রেস্টুরেন্টের ভেতরে আগে থেকে মজুত করে রাখা দেশীয় ধারালো অস্ত্র বের করে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রয়াত চেয়াম্যান আব্দুল কাদিরের ছেলে অর্ণব পাল্টা দাবি করেন, বর্তমান চেয়ারম্যান অলিউল ইসলাম অলির লোকেরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছেন। তবে হামলায় আহত ব্যক্তিদের নাম বলতে পারেননি তিনি।
আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর রহমান জানান, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তাই কতজন আহত হয়েছেন তাও তিনি জানেন না।
নাগরী ইউপি চেয়ারম্যান অলিউল ইসলাম অলি বলেন, আজকের অনুষ্ঠানের জন্য আমি সকাল থেকে স্কুল মাঠে ছিলাম। হঠাৎ ফোনে জানতে পারি মুজিবুর রহমান, সেলিম মেম্বার এবং প্রয়াত চেয়ারম্যান আব্দুল কাদিরের ছেলে অর্ণবের নেতৃত্বে আমার লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মিজানুল হক বলেন, খবর শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কারো লিখিত অভিযোগ হাতে পাইনি। অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আব্দুর রহমান আরমান/এসআর/জেআইএম