দেশজুড়ে

ফরিদপুরে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে গৃহবধূর অনশন

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে স্ত্রীর দাবি নিয়ে স্বামীর বাড়িতে অনশন শুরু করেছেন সাথী নামের এক গৃহবধূ। শুক্রবার (৬ আগস্ট) সকাল থেকে উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের কোন্দারদিয়া এলাকার স্বামী রবি দাসের (২৭) বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন তিনি।

অনশনরত ওই গৃহবধূর দাবিকৃত স্বামী রবি দাস ওই গ্রামের পিওতা দাসের (৬০) ছেলে। ঘটনার পর রবিদাস বাড়ি থেকে পালিয়েছেন।

তিনদিন ধরে অনশনরত ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ সাথী বিশ্বাস গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাতপাড় গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম কৃঞ্চ বিশ্বাস।

ওই গৃহবধূর জানান, কয়েক বছর ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক এবং বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। এর আগে তার অন্য জায়গায় বিয়ে হয়েছিল। আগের স্বামীও আছে। এক-দেড় বছর আগে পরকীয়া প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রেমিক রবি দাস তাকে বিয়ে করে। কিছুদিন ঢাকার পোস্তগোলা এলাকায় ভাড়া থেকে দুইজনে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ঘর-সংসারও করে।

এর কিছুদিন পরে হঠাৎ করে বেড়ানোর কথা বলে ফরিদপুরের সদরপুর এলাকায় খালু স্বপন দাসের বাড়িতে তাকে ফেলে রেখে রবি দাস পালিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী মহিলা সাথী বিশ্বাস জানান, আমার আগেও একবার বিয়ে হয়েছিল সেখান থেকে প্রেমের সম্পর্ক করে আগের ঘরসংসার ভেঙে আবার বিয়ে করে রবিদাসের সঙ্গে ঘর সংসারও করেছি। আমি এখন কোথায় যাব। হয় আমাকে ঘরে তুলতে হবে, নয়তো আমার মৃত্যু ছাড়া পথ নেই।

তিনি বলেন, আমাকে টাকা-পয়সা লোভ লালসা দিয়ে বিদায় করতে চেষ্টা করেছে। তাতে আমি রাজি না। এরপর এ নিয়ে বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়ন পরিষদে দুই পক্ষের লোকজন নিয়ে সালিশ-বৈঠক হয়। কিন্তু কোনো সুরাহা না হওয়ায় গোপালগঞ্জে আদালতে মামলা করে ভুক্তভোগী গৃহবধূ সাথী।

পলাতক থাকায় এ নিয়ে রবিদাসের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার বড় ভাই সুকুমার দাস মুঠোফোনে জাগো নিউজকে বলেন, তার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে ওই মহিলার কোনো সম্পর্ক নেই। বিয়েও হয়নি। এ নিয়ে আমাদের দাদপুর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে দুই পক্ষের লোকজন ও স্থানীয় এলাকাবাসীদের নিয়ে সালিশ বৈঠক হয়।

তিনি বলেন, মেয়েপক্ষ চেয়ারম্যান ও আমাদের কথা মেনে না নেয়ায় কোনো মীমাংসা হয়নি। পরে ওই নারী গোপালগঞ্জ আদালতে মামলা করে। এতে আমার ভাই তিনবার জেলও খেটেছে। বর্তমানে মামলা চলমান। সে জামিনে আছে। এসব প্রায় এক বছর আগের ঘটনা। কিন্তু হঠাৎ করে গত শুক্রবার ওই নারী আমাদের বাড়িতে এসে হাজির।

তিনি আরও বলেন, তার কথা একটাই রবি দাস আমার স্বামী। আমি তার সঙ্গে তার বাড়িতে ঘর সংসার করব। এছাড়া অন্যকোন কিছুতেই সে রাজি নয়। আমরা শালিসের মাধ্যমে কিছু টাকাপয়সা ক্ষতিপূরণ দিতে চেয়েছিলাম তাতেও সে রাজি না। এখন আমাদের সিদ্ধান্ত মামলার রায়ে যা হয়, তা মেনে নেব।

দাদাপুর এলাকার বাসিন্দা ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুর হোসেন তুষার এর সত্যতা নিশ্চিত করে জাগো নিউজকে জানান, এর আগেও এ নিয়ে শালিশ হয়েছে। কোনো সমাধান হয়নি। হঠাৎ করে গত শুক্রবার ওই নারী রবিদাসের বাড়িতে এসে স্ত্রীর দাবিতে অনশন শুরু করেছেন। বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মুশা বলেন, প্রায় বছরখানেক আগে এ নিয়ে উভয় পরিবার ও এলাকাবাসীদের নিয়ে আমার ইউনিয়ন পরিষদের শালিস বৈঠক হয়েছে। ওই নারী চায় সংসার করতে কিন্তু ছেলে ও তার পরিবার রাজি না হওয়ায় কোনো সমাধান করা সম্ভব হয়নি। পরে তিনি আদালতে মামলা করেন। হঠাৎ করে আবার ওই নারী রবি দাসকে স্বামী দাবি করে তার বাড়িতে এসে ঘর সংসার করার জন্য অনশন শুরু করেছেন।

সে কিছুতেই কথা শুনতে রাজি নন। সারাদিন রবিদাসের বাড়িতে ঘরের সিঁড়ির উপর বসে থাকে। গত দুই রাত পাশের এক প্রতিবেশীর বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু এভাবে একটা নারীকে কীভাবে কোথায় রাখব, কী করব এ নিয়ে বেশ সমস্যায় আছি।

এন কে বি নয়ন/এমআরএম