দেশজুড়ে

আলফাডাঙ্গার প্রাণ ‘মুজিব শতবর্ষ পার্ক’

পাঁচ একর জায়গার প্রায় পুরোটা ছিল জঙ্গল। লতা-গুল্মে ভরা স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ। ছিল পরিত্যক্ত পুকুর। উপজেলা কমপ্লেক্স হলেও এদিকটায় মানুষের আনাগোনা ছিলই না। সেই বুনো জঙ্গল এখন আলফাডাঙ্গাবাসীর প্রাণ। বিনোদনের প্রধান কেন্দ্র। নির্মল আনন্দ আর সবুজের সমারোহে বুকভরা শ্বাস নিতে এখানে বিনোদনপ্রেমীরা ছুটে আসেন দূর-দূরান্ত থেকেও।

পার্কটির প্রতিটি ইঞ্চিই যেন সেজেছে সবুজ আর নির্মল বিনোদনের উপকরণে। ফরিদপুর সদর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পার্কটির নাম ‘মুজিব শতবর্ষ পার্ক’। মধুমতি নদীর তীরে, নড়াইল জেলার সীমানা সংলগ্ন আলফাডাঙ্গা উপজেলা সদরে গড়ে উঠেছে এ মনোমুগ্ধকর বিনোদনকেন্দ্র।

সম্প্রতি পার্কটি উদ্বোধন করেন ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুর হোসেন। ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গড়ে ওঠা ছোট্ট এ উপজেলায় বিনোদন বলতে ছিল বর্ষা মৌসুমে মাঝে মধ্যে নদীতে নৌকা নিয়ে ঘোরাঘুরি। সারাবছর শিশু কিংবা পরিবার নিয়ে বেড়ানোর মতো কোনো বিনোদনকেন্দ্র গড়ে ওঠেনি দীর্ঘদিন। মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে গড়ে ওঠা পার্কটি এখন গোটা উপজেলার প্রাণ।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম জাহিদুল হাসান জাহিদ জাগো নিউজকে বলেন, এখন পর্যন্ত ৩২ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এখানে এসেছেন আর গেছেন। অধিকাংশ ছিলেন ভারপ্রাপ্ত। কেউ ছয় মাসের বেশি থাকতে চান না এখানে। বিষয়টি নিয়ে ভেবে দেখলাম এখানকার পরিবেশ পছন্দ না হওয়ায় তারা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে চান না। 

‘এটি বাস্তবায়নে সরকারের কাছে বড় বরাদ্দ চাইতে গেলে পাস হবে কিনা অনিশ্চয়তা ছিল। তাই একটু একটু করে কাজ এগিয়ে নিয়েছি। এভাবে দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে সবার আন্তরিকতায় এটি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে।’

উপজেলা প্রকৌশলী মো. রাহাত ইসলাম বলেন, পার্কটি বাস্তবায়নে অন্য উপজেলার মডেল দেখে সুবিধামতো পরিকল্পনা নিয়েছি। উদ্বোধনের পর থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছিল। ভিড় সামলাতে এখন রাইডগুলোতে নামমাত্র কিছু ফি রাখছি। রক্ষণাবেক্ষণেরও একটি বিষয় আছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, একটি পুকুর সংস্কারের সঙ্গে পুরোনো ও জীর্ণ গাছপালা ছেটে সেখানে পরিকল্পিত বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে দুই পাশে গাছ রোপণের মাধ্যমে হাঁটাচলার জন্য মনোরম পথ তৈরি করা হয়েছে। পুকুরের মধ্যে বসানো হয়েছে আলো ঝলমলে ফোয়ারা। পাড়ঘেঁষে বসার জন্য রাখা হয়েছে বেঞ্চ। উদ্যানের খোলা জায়গায় শিশুদের খেলাধুলার জন্য দোলনা, চরকা, স্লিপার, বোটসহ রয়েছে আরও কিছু উপকরণ। সেখানে তৈরি করা হয়েছে আরও একটি ফোয়ারা। সন্ধ্যায় পুরো পার্ক আলো ঝলমলে হয়ে ওঠে বর্ণিল দ্যুতি ছড়ায়।

স্থানীয়রা বলেন, আমাদের কাছে এমন একটি পার্ক একেবারেই নতুন। এখানে প্রবেশের জন্য কোনো টাকা দিতে হয় না। সবার জন্যই উন্মুক্ত। এমন সুব্যবস্থা দেশের খুব কম জায়গায়ই রয়েছে।

ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, শহরের বাইরে গ্রামীণ পরিবেশে এমন আধুনিক নয়নাভিরাম পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। বিশেষ করে শিশু ও পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর নির্মল পরিবেশ রয়েছে এখানে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদ এলাহী জাগো নিউজকে বলেন, এ পার্ক বাস্তবায়নের ফলে এখানকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে। জেলা শহর থেকে দূরবর্তী হলেও ভৌগোলিক ভাগে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা আলফাডাঙ্গা উপজেলার প্রথম কোনো বিনোদনকেন্দ্র এটি। দীর্ঘদিন ব্যবহার উপযোগী রাখতে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।

পার্কটি নিয়ে বাস্তবায়নাধীন আরও কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে পারলে পিকনিকের অনুমতিও মিলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়।

এ প্রসঙ্গে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক অতুল সরকার জাগো নিউজকে বলেন, শহর থেকে সবচেয়ে দূরের উপজেলা আলফাডাঙ্গায় তৈরি করা হয়েছে মুজিব শতবর্ষ পার্ক। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকল্পটি নিয়ে সার্বিক চেষ্টা অব্যাহত ছিল। ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুর হোসেনের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা এ পার্কে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। শিশু থেকে বড়রাও যাতে এখানে আনন্দ উপভোগ করতে পারে সেভাবেই এটি গড়ে তোলা হয়েছে।

এন কে বি নয়ন/এএ/এমএস