ফরিদপুরের মধুখালীতে একরাতে প্রতিবন্ধী প্রেম কুমারের (৪১) তিনটি গরু নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার মেগচামী ইউনিয়নের কালীনগর গ্রামে মৃত নবদ্বীপ মণ্ডলের চার ছেলের মধ্যে প্রেম কুমার তৃতীয়। বিয়ের পর তিন ভাই আলাদা হয়ে যাওয়ায় বৃদ্ধা সাবিত্রী মণ্ডল প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে স্বামীর ভিটেয় বসবাস করেন।
প্রেম কুমার বলেন, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) রাতে গোয়াল ঘরে দরজায় তালা দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। সকালে ঘুম থেকে উঠে আমার মা গোয়ালঘরে গিয়ে দেখেন আমাদের তিন গরু নাই। তালা ভেঙে গরুগুলো নিয়ে গেছে চোরেরা। সবমিলিয়ে গরু তিনটির দাম দুই লাখ টাকারও বেশি। এখন আমার সহায় সম্বল সব শেষ।
এ বিষয়ে সাবিত্রী মণ্ডল বলেন, ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখি গোয়াল ঘরের দরজা খোলা গরু নাই। আমার সন্তানের সারাজীবনের কষ্টের গরু নিয়ে গেল চুরি করে। প্রতিবন্ধী হওয়ায় কেউ কাজে নেয় না। তাই ছোটবেলা থেকে পরের গরু লালনপালন করে নিজের তিনটি গরু হয়। সারাদিন ওই গরু নিয়েই থাকতো। এখন ছেলের ভিক্ষা করা ছাড়া পথ নাই।
স্থানীয় মেগচামী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আবুল কালাম বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে শুক্রবার বিকেলে সেখানে যাই। দুপুরে নাকি তারা থানায় সাধারণ ডায়েরি জিডি করে এসেছেন।
এ ব্যাপারে জানতে মেগচামী ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান হাসান আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে এড়িয়ে যান। পরে বলেন, এসব বলে আর কি হবে? পুলিশ ধরার পর ওরা টাকা-পয়সা খরচ করে ঠিকই জেল থেকে বেরিয়ে আসে।
মধুখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলামের লিখিত অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এন কে বি নয়ন/আরএইচ/এএসএম