ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দাফনের ৯ মাস পর সজিব ভূঁইয়া (২৩) নামে এক যুবকের মরদেহ উত্তোলন করেছে পুলিশ। সজিব ভুঁইয়া উপজেলা ও পৌর সদরের মিঠাপুর গ্রামের কামাল ভুঁইয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন পোশাক শ্রমিক ছিলেন।
ফরিদপুর অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে স্থানীয় মিঠাপুর কবরস্থান থেকে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম ইমাম রাজী ও গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আনোয়ার নাসিম।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি সজীব ভুঁইয়া তার কর্মস্থল গাজীপুর থেকে ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসেন। পরেরদিন বিকেলে ধারের টাকা আদায়ের জন্য প্রতিবেশী ইস্রাফিল তালুকদারের বাড়িতে আটকে রেখে কয়েকজন যুবক তাকে মারধর করে। এতে সজীব অজ্ঞান হয়ে পড়লে এই সুযোগে তার মুখে বিষ ঢেলে দেয় অভিযুক্তরা। এরপর ওইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অভিযুক্তরা সজীবকে আলফাডাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে তার পরিবারকে খবর দেয়।
২৯ জানুয়ারি সজিবের শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পথে পথিমধ্যে বোয়ালমারী উপজেলার বাইখীর নামক স্থানে মাইক্রোবাসে তার মৃত্যু হয়। পরে ৩০ জানুয়ারি ময়নাতদন্ত শেষে সজিবের মরদেহ তার বাড়ির পাশে কবর স্থানে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় সজীবের বাবা কামাল ভুঁইয়া বাদী হয়ে ইস্রাফিল তালুকদারকে প্রধান আসামি করে ১২ জনের বিরুদ্ধে ফরিদপুর আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তর করা হয়। সিআইডি সজিব ভুঁইয়ার মরদেহ উত্তোলনের মাধ্যমে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য আদালতের কাছে অনুমতি চাইলে আদালত অনুমতি দেয়। আদালতের আদেশ পেয়ে কবর থেকে তার মরদেহ উত্তোলন করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আলফাডাঙ্গা থানার এসআই মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, আজ থেকে প্রায় ৯ মাস আগে মরদেহটি দাফন করা হয়। মরদেহ উত্তোলনের পর ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে মরদেহটি পাঠানো হয়।
এন কে বি নয়ন/জেডএইচ/