দেশজুড়ে

অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণের খেসারত দিতে হলো শিশুটিকে

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণের খেসারত দিতে হলো এক শিশুকে। ওই ভবনে খেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিশুটির বাম হাতের অর্ধাংশ ও দু’পায়ের তিনটি আঙুল কেটে ফেলতে হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন শিশুটির বাবা মোশারফ হোসেন।

জানা গেছে, উপজেলা সদরের বিএস ডাঙ্গী গ্রামের মো. মোশারফ হোসেন মাস্টারের একমাত্র ছেলে মোহাম্মদ আলী (১১) কয়েকদিন আগে প্রতিবেশী আ. কুদ্দুস মোল্যার নির্মাণাধীন ভবনে খেলতে যায়। ওই ভবন ঘেঁষে অরক্ষিত বিদ্যুতের মেইন লাইনের তারে জড়িয়ে শিশুটি মারাত্মক আহত হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার (৮ নভেম্বর) শিশুটির বাম হাতের অর্ধাংশ ও দু’পায়ের তিনটি আঙুল কেটে ফেলা হয়েছে।

গত ৩০ অক্টোবর বিকেলে শিশুটি তার বন্ধুদের নিয়ে নির্মাণাধীন ওই ভবনের তৃতীয় তলায় খেলতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হলে শিশুটির হাত ও পায়ের আঙল কেটে ফেলতে হয়েছে। শিশুটি উপজেলা সদরের হাজীডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। ওই স্কুলে শিশুটির বাবা মো. মোশারফ হোসেন সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

শিশুটির বাবা বলেন, নির্মাণাধীন ভবনের মালিকরা অর্থবিত্তসম্পন্ন ও এলাকার প্রভাবশালী। কোনো অনুমোদন ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে তারা বৈদ্যুতিক খুঁটির মেইন লাইন ঘেষে ভবন নির্মাণ করছেন। এমনকি বিল্ডিংয়ে প্রবেশের সিঁড়িপথ বন্ধ না করে তারা নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছেন। ফলে সিঁড়িপথ খোলা পেয়ে শিশুরা ভবনের ওঠে। আর খেলাচ্ছলে বিদ্যুতের মেইন লাইনের তারে জড়িয়ে আমার একমাত্র ছেলে মোহাম্মদ আলীর জীবনে অন্ধকার নেমে এসেছে। এরপরও ওই প্রভাবশালী ভবন মালিকরা কোনো তোয়াক্কা না করে বিদ্যুতের মেইন লাইন নিরাপদ দূরত্বে না রেখে ভবন নির্মাণ করে চলেছেন।

তবে এ বিষয়ে নির্মাণাধীন ভবন মালিক আ. কুদ্দুস মোল্যা বলেন, আমার ভবন নির্মাণের অনুমোদন আছে এবং উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে দরখাস্ত করেছি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল-মামুন বাঁধন বলেন, ওই ভবন নির্মাণের জন্য আমাদের কাছে কেউ কোনো লিখিত আবেদন করে নাই বা আমরা কাউকে অনুমোদন দেই নাই।

তিনি আরও বলেন, ভবন নির্মাণ কমিটির সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান আর সেক্রেটারি হচ্ছে উপ-প্রকৌশলী গোলাম মোর্শেদ। তবে ভবন নির্মাণ কমিটির কাছেও কেউ আবেদন করে নাই বা ভবন নির্মাণ কমিটি কোনো অনুমোদন দেয় নাই।

এ বিষয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের ইনচার্জ মফিজ উদ্দিন বলেন, আমাদের অবগত না করে ওই ভবন মালিক অপরিকল্পিতভাবে বিদ্যুতের ফোরফরটি লাইন ঘেঁষে ভবনটি নির্মাণ কাজ করছেন। এতে একটি শিশুর জীবনে অন্ধকার নেমে এসেছে। ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার শঙ্কা রয়েছে।

এন কে বি নয়ন/এমআরআর