দেশজুড়ে

অনুমোদনই নেই নবজাতকের কপাল কেটে ফেলা সেই হাসপাতালের

ফরিদপুর শহরে অবস্থিত সেই আল মদিনা প্রাইভেট হাসপাতালে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য বেরিয়ে এসেছে। বিভিন্ন সময়ে তারা চিকিৎসার নামে নানা অঘটনের জন্ম দিয়ে জরিমানাও গুনেছে। তবে রহস্যজনক কারণে তাদের এই চিকিৎসা প্রতারণা বন্ধ করতে পারেনি প্রশাসন।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ১০ বেডের জায়গায় এখানে ২০ বেডের হাসপাতাল চালানো হচ্ছিলো। আবার ১০ বেডের যেই অনুমোদন নিয়েছিলো তাও নবায়ন করা হয়নি। স্বাস্থ্য বিভাগের নবায়ন ছাড়াও নেই পরিবেশ ছাড়পত্র, নেই বজ্র ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য লাইসেন্সের বৈধ কাগজপত্র।

সরকারি নিয়ম হচ্ছে, প্রাইভেট হাসপাতালে ১০ বেডের জন্য তিনজন ডাক্তার এবং ছয়জন সনদধারি নার্স থাকতে হবে। কিন্তু ১০ বেডের জায়গায় ২০ বেডের এই আল মদিনা হাসপাতালে কোনো আবাসিক চিকিৎসকই নেই। একজন মাত্র চিকিৎসক রয়েছেন যিনি অনাবাসিক হিসেবে তিনবেলা এই হাসপাতালে এসে রাউন্ড দিয়ে যান।

সরেজমিনে জানা গেছে, হাসপাতালটিতে যে ক’জন ডিপ্লোমা নার্স থাকার কথা তাও নেই। এই হাসপাতালে ছিল মাত্র একজন ডিপ্লোমাধারী নার্স। হাসপাতালটিতে নার্সের চেয়ে আয়ার সংখ্যাই বেশি। ওটিতেও এই আয়ারাই নার্সের পরিচয়ে কাজ করেন। হাসপাতালটির পরিবেশ অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন। ওটির অবস্থা খুবই শোচনীয়।

স্থানীয়রা জানান, আল মদিনা প্রাইভেট হাসপাতালটিতে নিযুক্ত ছিলো অসংখ্য দালাল। যাদের মূল কাজই ছিলো একেবারেই সামনে অবস্থিত জেলার সবচেয়ে বৃহৎ চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের নানা অপকৌশলে এই হাসপাতালে নিয়ে আসা। তারপর তাদেরকে নানা ফাঁদে ফেলে প্রতারণার মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়া। গত বছর এই হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে অনিয়মের অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ধরনের হাসপাতালের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

এ ব্যাপারে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. ছিদ্দীকুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, আল মদিনা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি নবায়নের কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। তারা ১০ বেডের জায়গায় ২০ বেড নিয়ে হাসপাতাল চালাচ্ছিলো। শনিবারের ঘটনার পর ওই হাসপাতালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ফরিদপুরে আল মদিনা প্রাইভেট হাসপাতালে গাইনি ডাক্তার ছাড়াই আয়া আর নার্সের হাতে সিজার হওয়া এক শিশুর কপাল কেটে জখম করার ঘটনা ঘটে। শিশুটির কপালে নয়টি সেলাই দেওয়া হয়। এই ঘটনায় ক্লিনিকের মালিক মো. জাকারিয়া মোল্লা পলাশ ও আয়া চায়না বেগমকে আটক করে পুলিশ।

এন কে বি নয়ন/এফএ/এএসএম