গাজীপুরে বন্ধ ঘোষণা দেওয়া একটি পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। তারা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টাও করেন। লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে গাজীপুর মহানগরীর কুনিয়া বড়বাড়ি এলাকায় নাসা গ্রুপের লিজা কমপ্লেক্স কারখানায় বিক্ষোভের এ ঘটনা ঘটে।
কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন বছরের বেতন-ভাতা বাড়ানোর বিষয়ে পুরো মাসজুড়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বারবার কথা বলে আসছেন শ্রমিকরা। এর মধ্যেই হঠাৎ বুধবার (২৬ জানুয়ারি) কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে কর্মস্থল থেকে কারখানার কম্পাউন্ডে অবস্থান নেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, ওইসময় কারখানার কর্মকর্তারা শ্রমিকদের সরঙ্গ অসৌজন্যমূলক আচরণ করে পুনরায় কাজে যোগ দিতে বলেন। কর্মকর্তারা বেশ কিছু শ্রমিককে গালাগালি ও মারধর করেন। একপর্যায়ে শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে কারখানা থেকে বের হয়ে যান। পরদিন শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে কারখানায় আসেন। তবে কোনো দিকনির্দেশনা না পেয়ে অলস সময় কাটিয়ে তারা বিকেল ৫টার দিকে ফিরে যান।
শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ছুটি শেষে শনিবার ফের কাজে যোগ দিতে আসেন শ্রমিকরা। এসময় কারখানার প্রধান ফটকে বন্ধের নোটিশ ও শিল্পপুলিশ মোতায়েন দেখতে পান। পরে কারখানা খুলে দেওয়া ও বার্ষিক বর্ধিত বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। এসময় পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা করলে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন।
এদিকে কারখানা বন্ধের বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কারখানার পরিচালক গাজী মোহাম্মদ জাবের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখেছেন। তারা আশরাফ নামের এক কর্মকর্তাকে বেধড়ক মারধর করেন এবং কারখানার ফ্লোরে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। কম্পিউটার, সিসি টিভি, ল্যাপটপ ও সার্ভারসহ কর্মকর্তাদের ১২টি মোবাইল এবং অফিস থেকে ১৫ লাখ টাকা চুরি করেছেন। এসব কারণে ২০০৬ সালের শ্রম আইনের ১৩ (১) ধারা অনুযায়ী কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়ার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে মহাসড়ক অবরোধ করতে চেয়েছিল। তারা পুলিশের ওপর উত্তেজিত হয়ে গেলে লাঠিচার্জ করে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
আমিনুল ইসলাম/এসআর/জেআইএম