কুমিল্লার চান্দিনায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও ছাত্রলীগের পাল্টাপাল্টি ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় এলডিপির মহাসচিব ও কুমিল্লা-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ড. রেদওয়ান আহমেদের গুলি ছোড়ার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় ৪০ জনের বিরুদ্ধে চান্দিনা থানায় মামলা করা হয়েছে। এ মামলায় ড. রেদওয়ান আহমেদসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার (৯ মে) বিকেলে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কাজী আখলাকুর রহমান জুয়েল বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) এম তানভীর আহমেদ জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আটকরা হলেন- এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ (৬৯), মহিচাইল গ্রামের রবিউল্লাহর ছেলে আলী হোসেন (৩৭), হারং গ্রামের আব্দুল মবিনের ছেলে বাকি বিল্লাহ (৩৯) ও রেদোয়ান আহমেদের গাড়িচালক সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মেছড়া খামারখাতা গ্রামের রেজাউল করিম (৫৫)।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম তানভীর আহমেদ বলেন, এলডিপি ও ছাত্রলীগের পাল্টাপাল্টি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সময় রেদওয়ান আহমেদ তার গাড়ি থেকে গুলি ছোড়ার প্রাথমিকভাবে প্রমাণ মিলেছে।
এ ঘটনায় কাজী আখলাকুর রহমান জুয়েল নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। ওই ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে সোমবার (৯ মে) বিকেল ৪টায় চান্দিনা রেদওয়ান আহমেদ কলেজ ক্যাম্পাসের মমতাজ আহমেদ ভবনে কলেজ ছাত্রলীগ ও পৌর এলডিপি পাল্টাপাল্টি ঈদ পুনর্মিলনীর আয়োজন করে। দুপুর ১টার পর থেকে ছাত্রলীগের আয়োজনে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হতে শুরু করে।
দুপুর আড়াইটায় এলডিপি মহাসচিব ড. রেদওয়ান আহমেদ কলেজ ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে গেলে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতারা একই স্থানে এলডিপির অনুষ্ঠান করতে নিষেধ করেন এবং ছাত্রলীগও অনুষ্ঠান করবে না বলে জানান।
পরে গাড়ি নিয়ে ফেরার সময় ছাত্রলীগ নেতারা রেদওয়ান আহমেদের গাড়িতে তরমুজ ছুড়ে মারেন। এ সময় রেদওয়ান আহমেদ গাড়ির জানালা খুলে পরপর দুটি গুলি করেন। এতে ছাত্রলীগের দুই কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়।
জাহিদ পাটোয়ারী/এমএইচআর