দেশজুড়ে

পানি বাড়ছে পদ্মায়, প্লাবিত শতাধিক একর জমির ফসল

 পদ্মায় প্রতিনিয়ত পানি বাড়ছে। এরই মধ্যে ফরিদপুরে তলিয়ে গেছে নদীর তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের শতাধিক একর জমির ফসল। এসব ফসলের মধ্যে রয়েছে বাদাম, তিল ও ধান। পাশাপাশি ভাঙন বেড়েছে। প্রতিদিন এভাবে পানি বৃদ্ধি চলমান থাকলে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

Advertisement

পদ্মা নদীর গোয়ালন্দ পয়েন্টের গেজ রিডার সালমা খাতুন জানান, রোববার (২২ মে) পর্যন্ত পদ্মার পানি প্রবাহমান গতির ৬ দশমিক ৬৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৪ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়নের পালডাঙ্গি এলাকার বিস্তীর্ণ ক্ষেত ডুবে গেছে। পুরো চরজুড়ে বেশিরভাগ বাদাম ক্ষেত। বাদাম এখনো অপরিপক্ক। নিরুপায় হয়ে পানিতে তলিয়ে যাওয়া বাদাম তুলে ফেলছেন চাষিরা। এছাড়া তলিয়ে গেছে ধান ও তিলক্ষেত।

এলাকার বাদাম চাষি রুস্তম আলী ও রমজান শেখ জাগো নিউজকে বলেন, প্রায় ১৫ বিঘা জমির বাদাম এখন পানির নিচে। তলিয়ে যাওয়া বাদাম চড়া মূল্যের দিনমজুরি নিয়ে তুলতে হচ্ছে। এখনো পরিপক্কও হয়নি। তাও তুলে ফেলতে হচ্ছে।

Advertisement

আলেয়া বেগম নামের একজন বলেন, ‘এবার বাদাম খুব ভালো হয়েছিল। এক একর বাদাম চাষে খরচ হয়েছিল ৩৫ হাজার টাকা। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এখন আসল টাকাও উঠবে না। সারাবছর কী খেয়ে বাঁচবো এ চিন্তায় আছি।’

বাদাম, ধান ও তিল চাষি জুলমত শেখ ও আলী আকবর জাগো নিউজকে বলেন, আর মাত্র কয়েকদিন থাকলে ভালোভাবে ফসল ঘরে তুলতে পারতাম। পানি বৃদ্ধির ফলে তা আর হলো না। আমাদের সর্বনাশ হয়ে গেলো।

ডিক্রিরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহেদি হাসান মিন্টু জাগো নিউজকে বলেন, ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকাই চরবেষ্টিত। এখানে বসবাসরত বেশিরভাগ চাষিরা বাদাম, ধান ও তিল চাষ করে থাকেন। পদ্মায় পানি বাড়ায় নিম্নাঞ্চলের প্রায় শতাধিক একর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ প্রতিম সাহা জাগো নিউজকে বলেন, পদ্মায় এই সময়ে অপ্রত্যাশিতভাবে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিনই পানি বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে দুই মিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Advertisement

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড. হযরত আলী জাগো নিউজকে জানান, এ বছর জেলায় ৫ হাজার ২৮৫ হেক্টর জমিতে বাদাম আবাদ করা হয়েছে। এছাড়া ৫ হাজার ৩৭৪ হেক্টর জমিতে তিল ও ২২ হাজার ৯৮৫ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে চরাঞ্চলে বাদাম ও তিল আবাদের পরিমাণ বেশি হয়েছে।

তিনি বলেন, এবার লক্ষ্যমাত্রা বেশ ভালো ছিল। পানি বৃদ্ধির কারণে চাষিদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেলো। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের তালিকা তৈরি করে সরকারিভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।

এন কে বি নয়ন/এসআর/জিকেএস