দেশজুড়ে

পাটের ভালো ফলন হলেও পানির অভাবে জাগ দেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা

ফরিদপুরে পাটের ভালো ফলন হয়েছে। কিন্তু বৃষ্টি না হওয়ায় পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। মজুরি বেশি হওয়ায় রয়েছে শ্রমিক সংকটও। ফলে প্রখর রোদে মাঠেই শুকিয়ে যাচ্ছে পাটগাছ।

গত কয়েক বছর পাট চাষে লাভের মুখ দেখলেও এবার লোকসানে আশঙ্কা করছেন চাষিরা। যদিও কৃষি বিভাগের দাবি, সামনের কয়েকদিন বৃষ্টি হবে। তখন এ সমস্যা কিছুটা হলেও কেটে যাবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশের মধ্যে পাটের জন্য বিখ্যাত ফরিদপুর। জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল পাট। যার কারণে জেলার ব্যান্ডিং হচ্ছে ‘সোনালী আঁশে ভরপুর, ভালোবাসি ফরিদপুর’। অন্যবারের মতো এবার ফলন হয়েছে আশানুরূপ। ফরিদপুরের ৯টি উপজেলায় পাটের ভালো ফলনে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। তবে বৃষ্টি না হওয়ায় প্রখর রোদে শুকিয়ে যাচ্ছে নদী, নালা, খাল-বিল ও জলাশয়ের পানি। ফলে পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা।

এদিকে, বিভিন্ন সময়ে দরপতন, ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও পাট জাগ দেওয়ার পানির অভাবে কৃষকরা পাট চাষে কিছুটা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। এ ব্যাপারে সরকারের সুনজর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সরেজমিনে বিভিন্ন উপজেলার পাট চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাস প্রায় শেষ। কিন্তু বৃষ্টির তেমন দেখা না পাওয়ায় ও অত্র অঞ্চলের বেশিরভাগ খাল-বিল, নদী-নালায় পানি না থাকায় বেশ চিন্তিত কৃষকরা। পানির অভাবে পাট পচানো নিয়ে শঙ্কায় আছেন তারা। পর্যাপ্ত পানি পাওয়া না গেলে পাটের গুণগতমান নষ্ট হয়ে যাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।

পাটের রাজধানী হিসেবে পরিচিত সালথার রামকান্তপুর ইউনিয়নের হাবেলি গ্রামের কৃষক মো. আজিজ জাগো নিউজকে বলেন, ‘গত দুবছর চার বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। তবে জাগ দেওয়ার পানির অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। তাই এবার পাট চাষ কমিয়ে দিয়ে শাকসবজি ও মরিচের চাষ করছি।’

উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের পুরুরা গ্রামের কৃষক সবুর মোল্লা, সোহাগ মিয়াসহ একাধিক কৃষক বলেন, ‘বর্তমানে একজন দিনমজুরের দৈনিক হাজিরা ৭০০-৮০০ টাকা। এক বিঘা জমির পাট কেটে তা জাগ দিয়ে শুকিয়ে ঘরে তুলতে যে পরিমাণ মজুরি দিতে হয়, তাতে খরচ মিটিয়ে মণ প্রতি পাটের দাম পড়ে ২ হাজার টাকার অধিক। আবার খাল-বিলে অধিকাংশ সময় পানি থাকে না। আবার কোনো কোনো খালে মাছ চাষ করায় পানি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় পাট জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর ক্ষেত্রে বেশ সমস্যা হয়। ফলন ভালো হলেও সোনালী আঁশ ঘরে তোলা নিয়ে বেশ চিন্তায় আছি।’

বোয়ালমারীর সুতালীয়া গ্রামের অমর বিশ্বাস জাগো নিউজকে বলেন, ‘এবার বৃষ্টির হার কম। বর্ষার পানিও নেই। পাটের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু পাট জাগ নিয়ে চিন্তায় আছি।’

সালথার উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রামের পাটচাষি হরিদাস মজুমদার জাগো নিউজকে বলেন, ‘এবার পাটের ভালো ফলন হয়েছে। কিন্তু পানির অভাবে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছি। কারণ ভালো পানিতে পাট জাগ দিতে না পারলে রং ও মান ভালো হবে না। ভালো দামও পাবো না। এছাড়া জমি থেকে পাট কেটে অনেক দূরে নিয়ে জাগ দিতে হচ্ছে, এতে বেড়েছে শ্রমিকের মূল্যও। সব মিলিয়ে খরচ বেশি হবে।’

এ বিষয়ে ফরিদপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. হজরত আলী জাগো নিউজকে বলেন, ফরিদপুর পাটের জন্য বিখ্যাত। এ জেলার মাটি ও আবহাওয়া পাট চাষের জন্য উত্তম। চলতি মৌসুমে ফরিদপুরে দেড় লক্ষাধিক চাষি পাটের আবাদ করেছেন। জেলায় মোট ১ লাখ ২৪ হাজার হেক্টর আবাদি জমি রয়েছে। এরমধ্যে এবার ৮৬ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ বেল (১৮০ কেজিতে ১ বেল) পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, খাল-বিল, নদী-নালায় পানি নেই। এবার বৃষ্টিপাতও কম। পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে চাষিরা। তবে সামনে বৃষ্টি বাড়তে পারে। তখন এ সমস্যার সমাধান হবে।

এন কে বি নয়ন/এসজে/জিকেএস