অর্থপাচার ও লোডশেডিং সমস্যা নিরসনের দাবিতে প্রতীকী টাকা মিছিল ও সমাবেশ করেছে নতুনধারা বাংলাদেশ (এনডিবি)।
শুক্রবার (৫ আগস্ট) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই প্রতীকী মিছিল ও সমাবেশ করে সংগঠনটি।
সমাবেশে এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী বলেন, আমাদের দেশের মন্ত্রীরা বলেছেন, আমরা টাকা পাচারের জন্য আইন করিনি। এই কথার মাধ্যমে তারা পাচারকারীদের উৎসাহিত করেছেন। এটা সত্যিকার অর্থেই লজ্জাজনক।
তিনি বলেন, তর্ক-বিতর্কে একে অন্যকে দোষারোপ করতে দেখা যায়। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই সব স্তিমিত হয়ে যায়। ওদিকে নিরবে চলতে থাকে বাণিজ্যের নামে অর্থপাচার। চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য বিশ্লেষণ করে আমদানির কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে প্রতিবছর রেকর্ড গড়ার চিত্র দেখা যাচ্ছে।
‘গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) তথ্যানুযায়ী, ২০০৩ সালে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে ২৭৫ কোটি মার্কিন ডলার। ২০০৪ সালে ৩৮১ কোটি, ২০০৫ সালে ৪২৬ কোটি এবং ২০১৫ সালে এক হাজার ১০১ কোটি মার্কিন ডলার পাচার হয়। এরপর বাংলাদেশ থেকে আর কোনো তথ্য না পাওয়ায় সংস্থাটি বলেছিলো, বিগত বছরগুলোতে অর্থপাচারের ঘটনা অনেকাংশে বেড়েছে।’
‘বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে বছরে গড়ে ১০০ কোটি টাকা পাচার হয়। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) মতে, প্রধানত ১০টি দেশ এই অর্থপাচারের বড় গন্তব্যস্থল। দেশগুলো হলো- সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, হংকং ও থাইল্যান্ড। আর পাচার চলছে মূলত বাণিজ্য কারসাজি ও হুন্ডির মাধ্যমে।’
এনডিবির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা বলেন, দেশে মানিলন্ডারিং প্রিভেনশন অ্যাক্টের কথা কী আর বলবো? বাংলাদেশে টাকা পাচারকারীদের সরকার বিভিন্নভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। অনতিবিলম্বে এ আইনে যত ধরনের ঘাটতি আছে, সব দূর করে আন্তর্জাতিকভাবে পাচাররোধে পদক্ষেপ না নিলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে।
‘শুধু আইনের ফাঁকফোকরের কারণে চুরি যাওয়া অর্থ ফেরত আনতে অনেক সময় লেগে যায়। গত ১৮ বছরে যে পরিমাণ অর্থপাচারের কথা বলা হচ্ছে, তা সর্বশেষ তিন অর্থবছরের মোট বাজেটের কাছাকাছি। এছাড়া পাচারের এই অর্থ দেশের বর্তমান জিডিপির ৩১ শতাংশ। বর্তমানে জিডিপির আকার ৩৫৫ বিলিয়ন ডলার।’ \
তিনি আরও বলেন, অনেকে তুলনা করে বলছেন, পাচারের এই টাকা দিয়ে কয়েকটি পদ্মা সেতু বানানো যেতো। সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের অন্যতম অংশ মেট্রোরেলই বা কতগুলো বানানো সম্ভব ছিল? এ হিসাবও কষছেন কেউ কেউ।
সমাবেশে বক্তব্য দেন এনডিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক ও আবুল হোসেন, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিপুন মিস্ত্রী, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম ওয়াজেদ রানা, ঢাকা মহানগর উত্তর এনডিবির সদস্য উজ্জল প্রমুখ।
আরএসএম/এমপি/এএসএম