মো. ইউসুফ চৌধুরী ৪৩তম বিসিএসে অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ক্যাডারে কর্মরত। এরপর ৪৪তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডার এবং ৪৫তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তার শৈশব কেটেছে রাজশাহীর পবা উপজেলায়। শিক্ষাজীবনে তিনি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করেন। পরে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিষয়ে বিএসসি (ইঞ্জিনিয়ারিং) ডিগ্রি অর্জন করেন।
পরপর তিনবার তার ক্যাডার হওয়ার গল্প, নতুনদের জন্য নির্দেশনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন জাগো নিউজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইসমাম হোসাইন—
জাগো নিউজ: পরপর দুটি বিসিএসে প্রথম পছন্দের ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত—অনুভূতি কেমন?ইউসুফ চৌধুরী: অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করা সত্যিই কঠিন। আল্লাহর অশেষ রহমত, দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, ধৈর্য ও আত্মনিয়ন্ত্রণের ফলেই এ সাফল্য এসেছে বলে মনে করি। আনন্দের পাশাপাশি গভীর দায়িত্ববোধও অনুভব করছি। কারণ এটি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, মানুষের জন্য ইতিবাচক কিছু করার বড় সুযোগ ও প্রতিশ্রুতি।
জাগো নিউজ: বিসিএসের স্বপ্ন দেখেছিলেন কখন থেকে?ইউসুফ চৌধুরী: বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় যখন ভবিষ্যৎ কর্মজীবন নিয়ে ভাবতে শুরু করি; তখন থেকেই ক্যাডার সার্ভিসে কাজ করার ইচ্ছা তৈরি হয়। স্কুলজীবনে ডিসি, এসপি, ইউএনও—এই পদগুলোর নাম শুনলেই ভালো লাগতো। সেটাই বিসিএসের স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করেছে।
জাগো নিউজ: বিসিএস যাত্রার গল্প শুনতে চাই, প্রস্তুতি কীভাবে নিয়েছেন?ইউসুফ চৌধুরী: প্রথম লক্ষ্য ছিল ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে একটি চাকরি নেওয়া। সে অনুযায়ী বিভিন্ন চাকরি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে ‘সহকারী প্রকৌশলী’ হিসেবে কাজের সুযোগ পাই। চাকরির পাশাপাশি সেখান থেকেই বিসিএসের প্রস্তুতি শুরু করি। অফিস শেষে ক্লান্ত থাকলেও প্রতিদিন কিছু না কিছু শেখার চেষ্টা করতাম। পরিকল্পনা অনুযায়ী পড়া শেষ করে অনলাইনে মডেল টেস্ট দিতাম। প্রত্যাশিত নম্বর পেতে শুরু করলে আত্মবিশ্বাস এসেছিল। আল্লাহর রহমতে একাধিক বিসিএসে অংশ নিয়ে তিনটিতেই পছন্দের ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হই।
জাগো নিউজ: বিসিএস প্রস্তুতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল?ইউসুফ চৌধুরী: বিসিএস একটি দীর্ঘ ও অনিশ্চিত যাত্রা। দীর্ঘসময় ধৈর্য ধরে কঠোর পরিশ্রম করে যেতে হয়। মনোবল ধরে রাখাটাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। চাকরির পাশাপাশি নিয়মিত পড়াশোনা করাও কঠিন ছিল। তবুও লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হয়ে চেষ্টা করতাম। ঘুমানোর আগে অন্তত অল্প হলেও কিছু পড়া কিংবা লেখার চেষ্টা করতাম।
আরও পড়ুনবিসিএস প্রস্তুতির কৌশল জানালেন সুলতান মাহমুদ প্রথম স্থান অর্জনের গল্প শোনালেন নরসিংদীর শান্ত
জাগো নিউজ: আড়াল থেকে কেউ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন?ইউসুফ চৌধুরী: পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের বিশ্বাস ও উৎসাহ আমাকে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। পাশাপাশি নিজের ভেতরের তীব্র ইচ্ছা ও লক্ষ্য অর্জনের আকাঙ্ক্ষাই ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি। সবার ইতিবাচক কথা ও সামান্য সহযোগিতাও প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
জাগো নিউজ: নতুনদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?ইউসুফ চৌধুরী: প্রত্যেকটি টপিকস অবশ্যই বুঝে পড়তে হবে। যেন পরবর্তীতে কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই বিষয়টি অন্যের কাছে সহজে ব্যাখ্যা করা যায়। ফাইনাল পরীক্ষায় ভালো করার জন্য নিয়মিত পড়াশোনা ও ধারাবাহিকভাবে মডেল টেস্টে অংশগ্রহণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি পরীক্ষার পর নিজের ভুল-ত্রুটি চিহ্নিত করে তা সংশোধন করতে হবে। সময়ভিত্তিক পরিকল্পনা অনুযায়ী পড়া শেষ করতে পারলে প্রস্তুতি অনেক বেশি কার্যকর হবে। এ ক্ষেত্রে অনেক সময় স্টপওয়াচের ব্যবহার মনোযোগ ও টাইম ম্যানেজমেন্টে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। পড়ার সময় পূর্বের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করাও জরুরি। খাতায় কতটুকু লেখা সম্ভব; সে অনুযায়ী বিষয়ভিত্তিক সংক্ষিপ্ত নোট তৈরি করে রাখলে শেষ সময়ে রিভিশনে অনেক কাজে আসে। পাশাপাশি শুদ্ধ ও প্রাঞ্জল ভাষায় বাংলা-ইংরেজিতে লেখার ও বলার অভ্যাস নতুনদের একধাপ এগিয়ে রাখবে।
জাগো নিউজ: পুলিশ বা প্রশাসন ক্যাডারে নিজেকে কেমনভাবে দেখতে চান?ইউসুফ চৌধুরী: যেখানেই কাজ করি না কেন, নিজেকে একজন উদ্ভাবনী, পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে দেখতে চাই। আমার কাজ, মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে অন্তত একজন মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারলে কর্মজীবনকে সার্থক মনে করবো।
জাগো নিউজ: আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?ইউসুফ চৌধুরী: বর্তমানে কর্মক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিষ্ঠা নিয়ে কাজ করাই মূল লক্ষ্য। পরবর্তীতে উপযুক্ত সময়ে সম্ভব হলে একজন উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন আছে।
এসইউ