দেশজুড়ে

অসহায় আমেনার মুখে হাসি ফোটালো ‘উৎস’

ফরিদপুরে নতুন বছরের প্রথম দিনে একটি অসহায় পরিবারের মুখে হাসি ফোটালো উৎস সোশ্যাল অর্গানাইজেশন নামের একটি সামাজিক সংগঠন। পঙ্গু আমেনা বেগমকে দোকান ঘর করে মালপত্র কিনে ও নগদ টাকা দিয়েছেন উৎসের সদস্যরা।

রোববার (১ জানুয়ারি) বিকেলে উৎস সোশ্যাল অর্গানাইজেশন অসহায় পরিবারের নতুন আশার আলো জাগিয়ে তোলার জন্য আমেনা বেগমকে মালপত্রসহ একটি দোকান ঘর সাজিয়ে দেন। দোকানের নাম দিয়েছেন ‘আশার আলো’ স্টোর।

অসহায় পরিবার ও সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর সদর উপজেলার ধলার মোড় এলাকার আমেনা বেগম (৫৩) বছর চারেক আগে সড়ক দুর্ঘটনায় একটি পা হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। স্বামী জয়নাল শেখ (৭৫) অসুস্থ। তিনি কোনো কাজকর্ম করতে পারেন না। পরিবারের আয় করার মতো আর কেউ নেই। ফলে খেয়ে না খেয়ে দিন চলতো তাদের। অসহায় জীবনযাপন করতেন তারা। বিষয়টি জানতে পেরে অসহায় পরিবারটির পাশে দাড়ায় উৎস সোশ্যাল অর্গানাইজেশন নামের সামাজিক সংগঠনটি। তারা আমেনা বেগমকে একটি দোকান ঘর ও যাবতীয় মালপত্র কিনে দেন। কিছু নগদ টাকাও দেন। যাতে তিনি দোকানে কেনাবেচা করে অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে ভালোভাবে চলতে পারেন।

আমেনা বেগম জাগো নিউজকে বলেন, আমার স্বামী অসুস্থ। বয়সও হয়েছে। কোনো কাজকর্ম করতে পারেন না। আমি চার বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় একটি পা হারিয়েছি। কোনো আয়-রোজগার না থাকায় কোনো মতে দিনে একবার খেয়ে না খেয়ে জীবন চলতো। আমাদের কোনো ছেলে-মেয়েও নেই। উৎস সোশ্যাল অর্গানাইজেশন আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে আমাদের বেঁচে থাকার আশা দেখিয়েছে। চার বছর হলো ইলিশ মাছ খেতে ইচ্ছা করলেও খেতে পারিনি। তারা ইলিশ মাছ কিনে দিয়েছেন। দোকান ভর্তি মালপত্র তুলে দিয়েছেন। নগদ টাকাও দিয়েছেন। আমরা যতদিন বেঁচে আছি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। সৃষ্টিকর্তা তাদের মঙ্গল করুক।

এ ব্যপারে সংগঠনটির সভাপতি দিদারুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, তারা খুবই অসহায় জীবনযাপন করতেন। আমাদের সাধ্যমতো তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করা চেষ্টা করেছি। আমরা সব সময় গরীব, অসহায়, দুস্থ মানুষের পাশে থাকতে চেষ্টা করি। আমাদের সংগঠনটিতে বর্তমানে ১০০ জন ভলেন্টিয়ার কাজ করেছে। আমরা সবার সহযোগিতা পেলে আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবো।

দোকানঘর তুলে দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন, মো. আনোয়ার হোসেন, উৎস সংগঠনের সভাপতি দিদারুল আলম (দিদার), সাধারণ সম্পাদক সাইমুন ইসলাম অয়নসহ উৎসের অন্যান্য সদস্যরা।

এন কে বি নয়ন/জেএস/জিকেএস