দেশজুড়ে

‘স্বামীর অবহেলার কারণে দুই সন্তানসহ মরে যেতে চেয়েছিলাম’

‘স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের পর অবহেলা ও নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে দুই সন্তানসহ মরে যেতে চেয়েছিলাম। সন্তান দুটিকে রেখে গেলে অবহেলায় কষ্ট পাবে। তাছাড়া কার কাছে রাখবো সে কথা ভেবে তাদের নিয়েই মরতে চেয়েছিলাম। ওদের জুসের মধ্যে বিষ খাওয়ায়ে আমি নিজে খেয়েছিলাম। আল্লাহ আমাদের বাঁচিয়ে দিয়েছেন।’

স্বামীর নির্যাতন ও ভরণপোষণ না দেওয়ার কষ্টে বুধবার (১৮ জানুয়ারি) জুসে বিষ মিশিয়ে দুই সন্তানসহ আত্মহত্যার চেষ্টা করেন শিউলি বেগম (৩২)। নড়াইল পৌর এলাকার ভওয়াখালীতে এ ঘটনা ঘটে।

তবে এ যাত্রায় বেঁচে গেছেন তারা। চারদিন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকার পর সুস্থ হয়ে রোববার (২২ জানুয়ারি) সন্তানসহ নড়াইল সদর হাসপাতাল ত্যাগ করেন শিউলি বেগম। সেখানে জাগো নিউজকে এসব কথা বলেন তিনি।

এসময় শিউলী বেগম আরও বলেন, ‘এখন আর নড়াইলে থাকবো না। আবারও আমাদের ওপর নির্যাতন নেমে আসবে। তাই আমার জন্মস্থান নরসিংদী জেলায় চলে যাবো। সেখানে গিয়ে কোথাও কাজ নেবো এবং সন্তান দুটিকে লেখাপড়া শেখাবো।’

আরও পড়ুন: নির্যাতন সইতে না পেরে দুই সন্তানকে জুসের সঙ্গে বিষ খাওয়ালেন মা-

শিউলির প্রতিবেশীরা জানান, শিউলি বেগম তার স্বামী মিঠু শেখের সঙ্গে একই বাড়িতে থাকতেন। সম্প্রতি তার স্বামী আরেকটি বিয়ে করেন। এরপর থেকে প্রথম স্ত্রী শিউলি ও তার দুই সন্তানের ভরণপোষণ দিচ্ছিলেন না। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকতো। এরই জের ধরে বুধবার সকাল ১০টার দিকে শিউলিকে বেদম মারধর করেন তার স্বামী মিঠু।

নির্যাতনের পর দুপুরের দিকে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র শিশুসন্তান রাব্বিকে (৭) স্কুল থেকে ডেকে আনেন শিউলি বেগম। পরে তাকে ও আরেক সন্তান ইলমাকে (৪) জুসের সঙ্গে বিষপান করান। পরে নিজে বিষপান করেন। পরে তাদের নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চারদিন ধরে চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে রোববার বাড়ি ফেরেন শিউলি বেগম ও তার সন্তানরা।

শিউলির স্বামী মিঠু শেখের গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরায়। তিনি নড়াইল শহরের একটি হোটেলে কাজ করেন।

নড়াইল সদর হাসপাতালের আরএমও (ভারপ্রাপ্ত) ডা. সুজল কুমার বকসী বলেন, চিকিৎসকদের আন্তরিক চেষ্টায় সুস্থ হওয়ার পর তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান বলেন, ঘটনার পর থেকে মিঠু শেখ প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে পলাতক।

নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ফখরুল হাসান বলেন, শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) রাতে সদর হাসপাতালে শিউলী বেগমকে দেখতে গিয়েছি। প্রশাসন থেকে তাকে পাঁচ হাজার নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। দরকার হলে আরও সহযোগিতা করা হবে।

হাফিজুল নিলু/এসআর/জিকেএস