খেলাধুলা

রুবেলকে ‘ভিলেন’ মানতে নারাজ মাশরাফি

যে কোনো প্রতিযোগিতায় পরাজয়ের পর কোনো না কোনো অজুহাত দাঁড় করানো, না হয় এর-ওর ওপর দোষ চাপানোর কৌশল নতুন নয়। আর সেটা বেশি দেখা যায় ক্রীড়াঙ্গনে। বিশেষত ম্যাচ বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে।

এইতো সেদিন সিলেট স্ট্রাইকার্সের কাছে হারের পর রংপুর রাইডার্স শিবির থেকে বলার চেষ্টা করা হলো যে, মুশফিকুর রহিমের ১৭ নম্বর ওভারে মাঠে ঢোকাকে কেন্দ্র করে যে তিন-চার মিনিট খেলা বন্ধ ছিল, তাতেই নাকি দুই ওয়েল সেট ব্যাটার রনি তালুকদার ও নুরুল হাসান সোহানের ছন্দে ব্যাঘাত ঘটে। সেই রাতে ম্যাচ শেষে রংপুর কোচ সোহেল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে এসেও ঘটনাটিকে হাইলাইট করেছেন এবং তাদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে খেলা বন্ধ থাকার বিষয়টিকে জোরালোভাবে সামনে আনার চেষ্টাও করেন।

বৃহস্পতিবার রাতে বিপিএলের নবম আসরে ফাইনালে হারের পর সিলেট স্ট্রাইকার্স অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার সামনেও তেমন একটা অজুহাত দাঁড় করানোর সুযোগ ছিল। আর সেটি দলের সতীর্থ পেস বোলার রুবেল হোসেনকে ঘিরে।

আরও পড়ুন: মাশরাফিদের হারিয়ে চতুর্থ শিরোপা জয় কুমিল্লার

কারও কারও ধারণা ছিল খেলা শেষে প্রেস কনফারেন্সে এসে মাশরাফি বলে উঠবেন , ‘রুবেলই সব শেষ করে দিলো।’

রুবেলের ক্যাচ মিস আর অতি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বল হাতে এক ওভারে ২৩ রান খরচ করা অবশ্যই ভুগিয়েছে সিলেটকে। কিন্তু কেবল যে তাতেই সর্বনাশ ঘটেছে, এর সঙ্গে একমত নন মাশরাফি। তাইতো ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে রুবেলের প্রসঙ্গের ধারেকাছেও গেলেন না তিনি। অথচ আজকের ম্যাচে তিনি চাইলের সেটি পারতেন।

আজকের ফাইনালের শেষ দিকে ২৪ বলে যখন ৫২ রান দরকার কুমিল্লার, তখন ১৭ নম্বর ওভারে তিন ছক্কা ও এক বাউন্ডারি হজম করাসহ ২৩ রান দিয়ে ফেললেন সিলেট স্ট্রাইকার্স পেসার রুবেল হোসেন। তাতেই কার্যত ম্যাচ জয়ের স্বপ্ন ভাঙলো সিলেট স্ট্রাইকার্সের। কুমিল্লার ওভারপ্রতি ১৩ রানের লক্ষ্যমাত্রাটা কমে শেষ তিন ওভারে ৯ এর একটু বেশি হলো। এর আগে রুবেলের ব্যর্থতায় মাত্র ৮ রানে জীবন পান কুমিল্লার শিরোপা জয়ের নায়ক জনসন চার্লস।

আরও পড়ুন: বিপিএলে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হাসান-তানভীর

সিলেটের বাঁহাতি স্পিনার লিন্ডার বলে ডিপ স্কয়ার লেগে দাঁড়ানো রুবেলের হাতে ক্যাচ দিয়েও জীবন পাওয়া সেই ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ব্যাটার শেষ পর্যন্ত ৫২ বলে ৭৯ রানে নট আউট থেকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে রাজ্যজয়ী বীরের মত সাজঘরে ফিরেন।

এরকম দু-দুটি সর্বনাশা কাণ্ড ঘটানোর পরও মাশরাফি রুবেলকে দোষ দেননি। রুবেলকে খলনায়কের ভূমিকায় না বসিয়ে সিলেট অধিনায়ক উল্টো বলে উঠলেন, আসলে রুবেলকে দোষ দেই কী করে? ইনফ্যাক্ট রুবেলই আমাদের খেলায় ফিরিয়ে এনেছিল। আসল কথা হলো আমরা সময়মতো প্ল্যানগুলোর বাস্তবায়ন করতে পারিনি।

আরও পড়ুন: রেকর্ড গড়ে টুর্নামেন্টসেরা শান্ত

রুবেলের ১৭ নম্বর ওভারে এসে ২৩ রান দিয়ে ফেলাকেও খুব বড় করে দেখতে নারাজ মাশরাফি। তার ব্যাখ্যা, তখন ম্যাচের যা অবস্থা ছিল তাতে রুবেল কেন যে কেউ বল করলেই তার ওপর চড়াও হতো কুমিল্লার ব্যাটাররা।

কারও ওপর দোষ না চাপিয়ে খেলা শেষে শেরে বাংলার কনফারেন্স হলে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলতে এসে মাশরাফি বোঝানোর চেষ্টা করেন, তার দল অন্তত ১০ থেকে ১৫ রান কম করেছে। এবং সেটাও কেন ও কীভাবে হয়েছে তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ম্যাশ।

আরও পড়ুন: ফাইনালে ম্যাচসেরা জনসন চার্লস কত টাকা পুরস্কার পেলেন?

সিলেট ক্যাপ্টেন মনে করেন, ইনিংসের মাঝামাঝি ওয়েল সেট শান্তর আউট আর শেষ দিকে জর্জ লিন্ডা আউট হওয়ায় প্রত্যাশার চেয়ে দলের রান কিছুটা কম হয়েছে।

সিলেট ক্যাপ্টেন বোঝাতে চাইলেন, স্কোরটা ১৯০ হলে হয়তো চিত্রটা ভিন্ন হতে পারতো।

এআরবি/এমকেআর