দেশজুড়ে

দুপুরে খেতে এসে ঠাঁই হলো হাসপাতালে

স্বামী-স্ত্রী দুইজনেই গার্মেন্টসে চাকরি করেন। যে কারণে দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে বাসার বাইরে। প্রতিদিন সকালে বাসার দরজা-জানালা বন্ধ করে চলে যান কাজে। এরপর রাতে বাসায় ফেরা হয়। মাঝে দুপুরে কিছুক্ষণের জন্য বাসায় এসে খাওয়া-দাওয়া করে আবার কর্মস্থলে চলে যান।

প্রতিদিনের মতো রোববার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরেও বাসায় খেতে এসেছিলেন আল আমিন-সুখী দম্পতি। কিন্তু এদিন আর তাদের খাওয়া হয়নি। বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়ে স্বামী-স্ত্রী দুইজনেরই ঠাঁই হলো হাসপাতালে। রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তাদের এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করতে হচ্ছে।

রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা রামারবাগ এলাকায় গ্যাস লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্বামী আল আমিন (৩০) ও স্ত্রী সুখী আক্তার (২৫) দগ্ধ হন। তাদের দুইজনেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক। সেইসঙ্গে এ ঘটনায় আরও তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। তারা হলেন, মো. রফিক (৩৫), মোছা. আলেয়া বেগম (৬৫) ও মো. জামাল উদ্দিন (৪৫)।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্ফোরণে রুমের দরজা-জানালা ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে। সেইসঙ্গে পাশের বাড়ির চারটি রুমের জানালাও ভেঙে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, শাহানাজ বেগমের দুতলা বাড়ির নিচতলায় চারটি কক্ষ রয়েছে। এই চারকক্ষের বাসিন্দাদের জন্য একটি বাথরুম, গোসলখানা ও দুইটি গ্যাসের চুলা রয়েছে। আল আমিনের রুমের ডানপাশে গ্যাসের চুলা ছিল। কাজে যাওয়ার সময় আল আমিন তার রুমের দুটি জানালা বন্ধ করে যান। দিনের কোনো সময় চুলা থেকে গ্যাস লিকেজ হয়। এতে সারা ঘর গ্যাস জমাট বেঁধে যায়। দুপুরে খেতে এসে চুলা জ্বালাতেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।

বিস্ফোরণে তাদের রুমের দরজা-জানালা উড়ে গিয়ে পাশের ফারুকের বাড়ির চারটি রুমের জানালা ভেঙে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ওই সময় বাইরে থাকা আরও কয়েকজন আহত হন।

বাড়ির একাংশের মালিক রেজাউল করিম জাগো নিউজকে বলেন, আমি বাসার বাইরে ছিলাম। দুপুরে হঠাৎ বিকট আওয়াজে সবকিছু কেঁপে ওঠে। বাসায় এসে দেখি সবকিছু আগুনে পুড়ে গেছে। পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পাশের বাসার ভাড়াটিয়া রিনা বেগম জাগো নিউজকে বলেন, আমি গার্মেন্টসে চাকরি করি। প্রতিদিনের মতো দুপুরে বাসায় খেতে এসেছিলাম। বাসায় এসে যখন ভাত নিচ্ছিলাম তখনই বিকট আওয়াজে পুরো বিল্ডিং কেঁপে ওঠে। পরে পাশের বাসায় গিয়ে দেখি কয়েকজন দগ্ধ হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক ফখর উদ্দিন বলেন, তাৎক্ষণিক বিস্ফোরণের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বলা যাচ্ছে না। তবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস লিকেজ থেকে এই বিস্ফোরণ হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে বলতে পারবো।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. এস এম আইউব হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ফতুল্লা থেকে স্বামী-স্ত্রীসহ দগ্ধ হয়ে পাঁচজন এসেছেন। তাদের মধ্যে আল-আমিনের শরীরের ৯৫ শতাংশ ও সুখী আক্তারের শরীরের ৯৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। এছাড়া রফিকের শরীরের ১২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। দগ্ধ আলেয়া ও জামাল জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

 

মোবাশ্বির শ্রাবণ/এমআরআর/জিকেএস