দেশজুড়ে

পাকা রাস্তার অভাবে কষ্টে গ্রামবাসী

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের একটি গ্রাম ইউসুফদিয়া আপ্তপাড়া। গ্রামের প্রধান রাস্তাটি যুগ যুগ ধরে কাঁচা থাকায় গ্রামবাসীর কষ্টের শেষ নেই। যোগাযোগব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় গ্রামটি উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের ইউসুফদিয়া আপ্তপাড়া গ্রামে হাজারেরও বেশি মানুষের বসবাস। গ্রামের লোকজনদের বছরের প্রায় অর্ধেক সময় থাকতে হয় পানিবন্দি অবস্থায়। বর্ষাকালে নৌকা ও শুষ্ক মৌসুমে চলাচলের অনুপযোগী কাঁচা রাস্তা দিয়ে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হয়। এতে চরম দুর্ভোগের পাশাপাশি সময়ও অনেক বেশি লাগে।

স্কুলছাত্র রবিউল হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘বছরের অর্ধেক সময় পানি আর অর্ধেক সময় শুষ্ক থাকে। সামান্য বৃষ্টিতে কাঁচা রাস্তা কাদা হয়ে যায়। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে মাঝে মধ্যে স্কুলে যাওয়া হয় না।’

ওই গ্রামের যুবক শফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘রাস্তা না থাকায় আমরা প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। আমার নিজের মোটরসাইকেল থাকলেও গ্রামের বাড়িতে আনতে পারি না। পাশের গ্রামে রেখে পাঁয়ে হেটে বাড়িতে আসতে হয়। অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশসহ কোনো গাড়িই গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। এমনকি সাইকেল, ভ্যানও চলে না।’

আরেক বাসিন্দা আবুল কাশেম জাগো নিউজকে বলেন, ‘যোগাযোগব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় এ গ্রামে কেউ আত্মীয়তা করতে চায় না। আত্মীয়-স্বজনরাও আসতে চায় না। রাস্তা নিয়ে গ্রামবাসী চরম ভোগান্তির মধ্যে আছে।’

এ বিষয়ে ভাওয়াল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুকুজ্জামান ফকির বলেন, ‘কাঁচা রাস্তাটি নিয়ে গ্রামবাসীর ভোগান্তির শেষ নেই। আমার জায়গা থেকে রাস্তা পাকাকরণের জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা করা হয়েছে।’

জেলা পরিষদের সদস্য নুর আহম্মদ তোতা মিয়া বলেন, রাস্তা নির্মাণের জন্য স্কিম দিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহাদাব আকবর লাবু চৌধুরীর কাছে আবেদন করা হয়েছে। রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য জোর চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর বলেন, রাস্তাটি পাকা করার জন্য আমার জায়গা থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। যতদ্রুত সম্ভব স্থানীয় সংসদ সদস্যের মাধ্যমে রাস্তাটি পাকা করা হবে।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আক্তার হোসেন শাহিন বলেন, রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসআর/এমএস