আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জেরে কুমিল্লার তিতাস উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল হোসেন (৪০) হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া বোরকা পরা তিন শ্যুটারের একজন দেলোয়ার হোসেন দেলু (৩৩) ও তাদের সহযোগী সাহিদুল ইসলাম ওরফে সাদ্দাম মাস্টারকে (৩৩) গ্রেফতার করেছে র্যাব।
গ্রেফতার দেলু দাউদকান্দি উপজেলার চর চারুয়া গ্রামের জাহেদ আলীর ছেলে এবং সাদ্দাম তিতাস বড় গাজীপুর গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে।
আরও পড়ুন: যুবলীগ নেতা হত্যায় আরও তিনজন গ্রেফতার, ৭ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ
অন্যদিকে, পুলিশের অভিযানে জামাল হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রসহ উদ্ধারসহ মাজহারুল ইসলাম সৈকত নামে আরেকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় এ নিয়ে মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
র্যাব-১১, কুমিল্লা সিপিসি-২ এর অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন বলেন, মঙ্গলবার বিকেল ও রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে দেলোয়ার হোসেন দেলু এবং তিতাস উপজেলার গাজীপুর এলাকা থেকে সাদ্দাম মাস্টারকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দেলোয়ার জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে আরিফ, কালা মনির এবং সে সরাসরি বোরকা পরে অংশ নেয়। খুনের মিশন শেষে তারা বিভিন্নজনের সহযোগিতায় পালিয়ে যায়। ঘটনার পর বিদেশে পালিয়ে গেছে আরিফ ও কালা মনির। তাদের পালাতে সার্বিক সহযোগিতা করেছে সাহিদুল ইসলাম ওরফে সাদ্দাম মাস্টার।
আরও পড়ুন: পূর্বশত্রুতার জেরেই খুন হন যুবলীগ নেতা জামাল
এদিকে, কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আবদুল মান্নান জানান, জামাল হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র কুমিল্লার চান্দিনা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে উঠে আসা আসামি মাজহারুল ইসলাম সৈকতকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যমতে, দুইটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলবার, ২৪ রাউন্ড গুলি এবং আসামিদের ব্যবহার করা মোবাইলফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাজহারুল ইসলাম সৈকতসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে চান্দিনা থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে।
এর আগে ৩০ এপ্রিল রাত সোয়া ৮টার দিকে জামাল হোসেন এশার নামাজ পড়তে গৌরীপুর পশ্চিম বাজার বায়তুন নুর জামে মসজিদের দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় বোরকা পরিহিত তিন দুর্বৃত্ত মসজিদ গলিতেই তাকে একাধিক গুলি করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের দুইদিন পর ২ মে রাত সাড়ে ১১টায় তার স্ত্রী পপি আক্তার বাদী হয়ে দাউদকান্দি থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় যুবলীগ নেতা হত্যার ‘পরিকল্পনাকারী’ আওয়ামী লীগ নেতা
মামলার আসামিরা হলেন তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি গ্রামের সুজন, আরিফ হোসেন, ইসমাইল হোসেন, মনাইরকান্দি গ্রামের শাহিনুল ইসলাম ওরফে সোহেল শিকদার, জিয়ারকান্দি গ্রামের বাদল, শাকিল, দাউদকান্দির গোপচর গ্রামের শাহ আলম, তিতাসের জিয়ারকান্দি গ্রামের অলি হাসান ও কালা মনির।
জাহিদ পাটোয়ারী/এমআরআর/জিকেএস