অতীত অভিজ্ঞতাকে স্মরণে রেখে মহাসমাবেশের একদিন আগেই যশোর বিএনপির নেতাকর্মীরা ঢাকায় পৌঁছে গেছেন। বিচ্ছিন্নভাবে খণ্ড খণ্ড আকারে জেলার প্রায় চার হাজার নেতাকর্মীরা এরই মধ্যে রাজধানীতে অবস্থান নিয়েছেন।
পুলিশের তল্লাশি আর হয়রানি এড়াতেই যশোর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এবার এ কৌশল নিয়েছেন। তারপরও সমাবেশে যোগ দিতে গিয়ে রাস্তায় ১০ নেতাকর্মী পুলিশের হাতে আটক হয়েছে বলে অভিযোগ নেতাকর্মীদের।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অতীতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে ঢাকায় যাওয়ার অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। বেশিরভাগ সময়ই পথে পুলিশের তল্লাশির কবলে পড়তে হয়েছে তাদের। পাশাপাশি ক্ষমতাসীনদের হাতেও নাজেহাল হতে হয়েছে। এবার সেই হয়রানি এড়াতে আগে থেকেই তারা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে ঢাকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন নেতাকর্মীরা।
শুক্রবার (২৮ জুলাই) ঢাকায় বিএনপির সমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্যে যশোর জেলার প্রত্যেক ইউনিয়নে একজনকে ইউনিট প্রধান করা হয়েছে। প্রতি ইউনিট থেকে নিজ নিজ দায়িত্বে ১৫ জন করে নেতাকর্মী ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে দল থেকে। এছাড়া আটটি উপজেলা ও আটটি পৌর কমিটিকে ১০০ জন করে জমায়েত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র বলছে, নেতাকর্মীরা গত দুদিন ধরে মাইক্রোবাস, বাস ও ট্রেনে করে ঢাকায় জড়ো হয়েছেন। তারা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন। লাগাতার আন্দোলনের প্রস্তুতি নিয়েই তারা ঢাকায় যাচ্ছেন বলে দলের একজন শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন।
যশোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, ঢাকার সমাবেশে যোগ দিতে কেন্দ্রীয় নেতারা যে সংখ্যা-সীমা দিয়েছিলেন তা পার হয়ে গেছে। যারা সক্রিয় নেতাকর্মী তারা সবাই ঢাকায় চলে গেছেন। এবারের ঢাকার সমাবেশে যোগ দিতে নেতাকর্মীদের কারোর টাকা দেওয়া লাগেনি। নিজ নিজ উদ্যোগে স্বেচ্ছায় দলের প্রতি ভালোবাসায় তারা ঢাকায় গেছেন।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ পথে পথে নেতাকর্মীদের হয়রানি করে। এজন্য আমরা ভিন্ন কৌশল নিচ্ছি। বাস-ট্রাক ভাড়া করে দল বেঁধে যাচ্ছি না; যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস ও ট্রেনে করে নেতাকর্মীরা নিজ দায়িত্বে ঢাকায় পৌঁছে গেছে।
মিলন রহমান/এসআর/জেআইএম