জাতীয়

ইউপি নির্বাচনে বিধি ভঙ্গ করে চলছে এমপিদের প্রচারণা

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন চলছেই। বিধি ভঙ্গ করে এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানরা নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। কোথাও কোথাও বিরোধী প্রার্থীদের ভয়ভীতিও দেখানো হচ্ছে। আবার কোথাও বা নির্দিষ্ট সময় ছাড়াই দিন-রাত প্রচারণা চালানো হচ্ছে। কিন্তু বেশির ভাগ সময়ই এসব বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে স্থানীয় এমপি সোহরাব উদ্দিন নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। রোববার বিকেলে তিনি ইউনিয়নটির বিভিন্ন স্থানে দলের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রচারণা চালান। দুপুরে লোহাজুরী ইউনিয়নে প্রবেশ করেন এমপি সোহরাব। ওই সময় তার গাড়ির সামনে-পেছনে অন্তত ১৫টি মোটরসাইকেল ছিল। প্রতিটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতাহার উদ্দিনের ও নৌকা প্রতীকের ছবি সংবলিত স্টিকার লাগানো ছিল। সঙ্গে ছিল পুলিশের গাড়িও। বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে চরকাউনিয়া বাজারে পথসভায় বক্তব্য দেন তিনি। এর আগে তিনি আপতু মুন্সির বাড়ি ও অরিয়াদর বাজারেও পথসভা করেন বলে দলীয় কর্মীরা জানিয়েছেন। চরকাউনিয়া বাজারে বক্তব্য দেয়ার সময় সংসদ সদস্য হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করেছেন। ওই সময় ১০ গজ দূরে দলীয় প্রার্থী আতাউর উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। এই ইউনিয়নে ৩১ মার্চ ভোট হবে। জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরে আলম তালুকদার রুনু জাগো নিউজকে জানান, প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থকরা তার উপর হামলা চালাচ্ছে। সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে তার সমর্থকদের উপরও হামলা চালানো হচ্ছে। কিন্তু অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না ইসি। এই ইউনিয়নে ৩১ মার্চ ভোট হবে। এরআগে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে বরগুনা-২ আসনের আওয়ামী লীগের এমপি শওকত হাচানুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ইসি। এছাড়া পাবনা-২ আসনের এমপি খন্দকার আজিজুল হক আরজুর বিরুদ্ধেও আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছিল। এরপর তাকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয় ইসি। এসবই ঘটেছে প্রথম দফা নির্বাচনের সময়। এছাড়া আর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের নজির নেই ইসির। আমাদের গাজীপুর সংবাদদাতা জানিয়েছেন, সেখানকার কালিগঞ্জে চলছে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের হিড়িক। নির্দিষ্ট সময় মাইকিং ও সভা-সমাবেশ না করে তা চলছে বিরতিহীনভাবে। এছাড়াও উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন।  নির্বাচনী আচরণবিধির ৩১ দফায় বলা হয়েছে, আচরণবিধি লঙ্ঘন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রার্থী বা তার পক্ষে এ বিধান লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। রাজনৈতিক দলও এ বিধি লঙ্ঘন করলে ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।এইচএস/এসকেডি/এনএফ/পিআর