জাতীয়

লজ্জায় টাকা ফেরত দেবে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক : কিউসি

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে নবনিযুক্ত আইনজীবী ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া টাকা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক লজ্জায় ফেরত দেবে। সোমবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের নিজ কক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।মামলা ছাড়াই টাকা ফেরত আসবে উল্লেখ করে সিনিয়র এই আইনজীবী বলেন, ‘মামলা তো করাই যায়, আমিতো চুরির ভিকটিম। যে টাকা দিয়েছে সেটা তো আমার ইনসট্রাকশন অনুসারে দেয়ার কথা। সেটা তো আমি দিইনি। এটা ক্লিয়ার। ইনস্ট্রাকশন চোর দিয়েছে। চোরের ইনস্ট্রাকশন অনুসারে কাজ করলে আমরা তো বলতেই পারি, তুমি আমার ইনস্ট্রাকশন অনুসারে কাজ করোনি। আমার টাকা ফেরত দাও। এটা সহজ। মামলা করা লাগবে না, ওরা লজ্জায় এমনি টাকা দিয়ে দিবে।’ রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে তাদের যে চুক্তি ছিল, সেটি ভঙ্গ হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।আজমালুল হোসেন কিউসি বলেন, ‘ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় কোনো দুর্বলতা আছে কি না তা খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সিস্টেমের মধ্যে কোনো ক্ষত বা সিস্টেম ডিফিসিয়েন্সি (প্রক্রিয়াগত ঘাটতি) আছে কি না, তা দেখা হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে কিছু কিছু সিস্টেমে ডিফিসিয়েন্সি আছে। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক যে ইনস্ট্রাকশনগুলোর ওপর অ্যাক্ট (কাজ) করেছে, তার কয়েকটার যথার্থ না। সেখানে কনফারমেশন (নিশ্চয়তা) চেয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। কনফারমেশন পাওয়ার আগে তারা পেমেন্ট করলো। অর্থাৎ তারা চোরের ইনস্ট্রাকশনে পেমেন্ট করেছেন।’  তিনি আরো বলেন, ‘একটা জিনিস খেয়াল রাখতে হবে, ইনস্ট্রাকশন যেটা এসছিল পে করার জন্য সেটা ৪ ফেব্রুয়ারি। টাকা পেমেন্ট হয়েছে ৯ ফেব্রুয়ারি। তখন ছিল শুক্র ও শনিবার। আমাদের ছুটি ছিল। আমেরিকাতে শনিবার ও রোববার ছুটি ছিল। ফিলিপাইনে সোমবার ছুটি ছিল। সোমবার পর্যন্ত টাকাটা পেমেন্ট হয়নি। হয়েছে মঙ্গলবারে। ৪ তারিখ আর ৯ তারিখের মধ্যে পাঁচ-ছয় দিনের তফাৎ। ছুটি থাকায় এই সময়ের মধ্যে চেষ্টা করেও রিজার্ভ ব্যাংককে বার্তা পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।’ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে সঞ্চিত বাংলাদেশে ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা থেকে ৮শ কোটি টাকা হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে সরিয়ে নেয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি ধামা চাপা দিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও ফিলিপাইনের একটি সংবাদ মাধ্যমে তা ফাঁস করে দেয়। মূলত ফিলিপাইনের কয়েকটি ক্যাসিনোর মাধ্যমে এ টাকা পাচার করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, চুরি যাওয়া অর্থের কিছু উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ফিলিপাইনের অর্থ পাচারবিরোধী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করে বাকি অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এদিকে মঙ্গলবারই ফিলিপাইনের সিনেট কমিটির শুনানিতে চুরি যাওয়া রিজার্ভের আংশিক বাংলাদেশকে ফেরত দিতে চাওয়ার কথা জানিয়েছেন দেশটির ব্যবসায়ী কিম অং। বিপুল পরিমাণ অর্থ চুরির এই ঘটনার জেরে ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের পদ ছেড়েছেন ড. আতিউর রহমান। এদিকে রিজার্ভ লুটের এই ঘটনায় ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকের (আরসিবিসি) শাখা ব্যবস্থাপক মাইয়া স্যানটোস দেগুইতোকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছিল বলে দাবি তার। এফএইচ/এনএফ/পিআর