রাজনীতি

খালেদার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় নাশকতার হুকুম দেয়ার অভিযোগে পুলিশের করা এক মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। একই সঙ্গে আগামী ২৭ এপ্রিল গ্রেফতারি পরোয়ানা সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করা হয়েছে। আজ এ মামলায় অভিযোগপত্র আমলে নেয়ার জন্য দিন ধার্য ছিল। অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে আদালত খালেদাসহ আাসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির এই আদেশ দেন।এ সংক্রান্ত মামলার শুনানি শেষে বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হাসান মোল্লা পরোয়ানা জারির এই আদেশ দেন।২০১৫ সালের ৬ মে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত শেষে খালেদা জিয়াসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে অভিযোগপত্র জমা দেয়। অভিযোগপত্রে খালেদা জিয়াসহ ২৮ জনকে পলাতক দেখিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করে পুলিশ। এ মামলায় খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করা হয়।এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, এ মামলায় ঘটনার দিন খালেদা জিয়া পুলিশ দিয়ে গুলশানে অবরুদ্ধ ছিলেন। কিন্তু তাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শেষে তাকে পলাতক দেখিয়ে অভিযোগপত্র দিয়েছে।খালেদা জিয়ার অপর এক আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, আদালতে সময় চেয়ে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু  আমাদের আবেদন খারিজ করে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।খালেদা জিয়া আত্মসমর্পণ করবেন কি না জানতে চাইলে সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, খালেদা জিয়া আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তার বিরুদ্ধে যতগুলো মামলা আছে, তিনি সবগুলোতেই হাজির হয়েছেন। এই মামলাটিতেও আইনগতভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তবে আত্মসমর্পণ করবেন কি না সেটা ওনার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাপস কুমার পাল বলেন, অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে আদালত খালেদাসহ পলাতক ২৮ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন মতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।খালেদা জিয়া ছাড়া অন্যান্য যাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তারা হলেন,  বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, বরকত উল্লাহ বুলু, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেসসচিব মারুফ কামাল খান, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সালাউদ্দিন আহমদ ও তার ছেলে তানভীর আহমেদ, সুলতান সালাউদ্দিন, নবী উল্লাহ নবী প্রমুখ। এ মামলায় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, আমানউল্লাহ আমান, শওকত মাহমুদ, সেলিম ভুইয়া ও রফিকুল ইসলাম জামিনে আছেন। এ ছাড়া আরও চারজন কারাগারে রয়েছেন।উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি রাতে যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় গ্লোরি পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে বাসের ২৯ যাত্রী দগ্ধ হন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হলে ১ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নূর আলম (৬০) নামে এক যাত্রী। ওই ঘটনায় ২৪ জানুয়ারি বিকেলে খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে মামলা করে যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ।এফএইচ/এআরএস/আরআইপি