দেশের সংবাদপত্রের সাফল্য ও পেশাদারি সাংবাদিকতার প্রতীক দৈনিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের শুভ জন্মদিন আজ (১ এপ্রিল) শুক্রবার।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রাবস্থায় ১৯৬২ সালে চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদীর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন। পরের বছর দৈনিক সংবাদের সহ-সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের পর কয়েক মাস বানারীপাড়া ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশনে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৭২ সালে সিনিয়র সহ-সম্পাদক (শিফট ইনচার্জ) হিসেবে যোগ দেন দৈনিক ইত্তেফাকে। পরে প্রধান সহ-সম্পাদক, যুগ্ম-বার্তা সম্পাদক ও বার্তা সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।২৭ বছর কর্মজীবন শেষে ১৯৯৯ সালে ইত্তেফাক ছেড়ে যুগান্তরের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদকের দায়িত্ব নেন তিনি। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন দৈনিক সমকাল। সাংবাদিকতার দীর্ঘ ৫০ বছর পথপরিক্রমার পাশাপাশি গোলাম সারওয়ার সাহিত্য-সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও রেখেছেন উজ্জ্বল অবদান।সংস্কৃতি বিষয়ক সাপ্তাহিক পূর্বাণীর নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। চলচ্চিত্র সাংবাদিকদের সংগঠন ‘বাচসাস’-এর সাধারণ সম্পাদকও নির্বাচিত হন।ষাটের দশকে সাংবাদিকতার শুরু থেকে একটানা ৫০ বছর তিনি এই পেশায় মেধা, যুক্তিবোধ, পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা, মুক্ত ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনার নিরবচ্ছিন্ন চর্চা করে চলেছেন। মুক্তিযু্দ্ধের পক্ষে তিনি বরাবর আপোসহীন ও অকুতোভয়। সংবাদপত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ বার্তা বিভাগে গোলাম সারওয়ারের সৃজনশীলতা, সংবাদবোধ ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা উদাহরণ হিসেবে গণ্য।ষাটের দশকে অসংখ্য ছড়া লিখেছেন গোলাম সারওয়ার। ‘রঙিন বেলুন’ নামে শিশু একাডেমি তার একমাত্র ছড়ার বইটি প্রকাশ করে। তার নানা স্বাদের লেখার সমারোহে সমৃদ্ধ ‘সম্পাদকের জবানবন্দি’, ‘অমিয় গরল’, ‘আমার যত কথা’, ‘স্বপ্ন বেঁচে থাক’ প্রভৃতি।সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৪ সালে একুশে পদক লাভ করেন তিনি।১৯৪৩ সালের এই দিনে বরিশালের বানারীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন গোলাম সারওয়ার। বাবা মরহুম গোলাম কুদ্দুস মোল্লা ও মা মরহুম সিতারা বেগম।আরএস/এবিএস