কুমিল্লার দেবিদ্বারে দৃষ্টি-প্রতিবন্ধী এক কিশোরী গৃহকর্মীকে ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে দেবিদ্বার থানায় এ মামলা দায়ের করেন গৃহকর্মীর বাবা মোসলেহ উদ্দিন।মামলার আসামিরা হলেন, গৃহকর্তা জসিম উদ্দিন, তার স্ত্রী রুবি আক্তার ও একই গ্রামের আবুল কালাম।শনিবার দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই গৃহকর্মীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২২ ধারায় ওই গৃহকর্মী জবানবন্দী দিয়েছে। রাতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলায় অভিযোগ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেবিদ্বার পৌর এলাকার ভুষনা গ্রামের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের বাড়িতে গৃহ-পরিচারিকার কাজ করতো পার্শ্ববর্তী রামপুর গ্রামে নানার বাড়িতে আশ্রিত মোসলেহ উদ্দিনের দৃষ্টি-প্রতিবন্ধী কিশোরী মেয়ে (১৩)। গত চার মাস যাবৎ নানা প্রলোভনে তাকে গৃহকর্তা জসিম একাধিকবার ধর্ষণ করার ফলে সে অন্তঃস্বত্বা হয়ে পড়েছে। পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে চিকিৎসার নামে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গর্ভপাত ঘটানো হয়। গৃহকর্মী ওই কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগ পেয়ে অনুসন্ধানে নামে স্থানীয় একদল সাংবাদিক ও সমাক নামের একটি মানবাধিকার সংস্থা। নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক প্রতিবেশি জানান, এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার গ্রাম্য সালিসির নামে ওই কিশোরীর ভরণ পোষণ, থানা পুলিশকে ম্যানেজের নামে গৃহকর্তা জসিমের নিকট থেকে চার লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে মাতব্বরাই ভাগ-বাটোয়ারা করে নেন। গর্ভপাত ঘটানোর পর গত ২৫ মার্চ থেকে ওই কিশোরীকে তার মাসহ অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে আটকে রাখে অভিযুক্ত জসিম ও তার সহযোগীরা। শুক্রবার রাতে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসার পর গৃহকর্মী জানায়, তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করার পর বিষয়টি কাউকে না জানানোর হুমকি দিয়েছিল বাড়ির মালিক জসিম। কিন্তু বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে তাকে একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গর্ভপাত ঘটানো হয়।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দেবিদ্বার থানার এসআই সোহেল আহমেদ রাতে জাগো নিউজকে জানান, ওই কিশোরীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাত করানোর অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) এবং বাংলাদেশ দ. বি. ৩১৩ ধারায় গৃহকর্তাসহ তিন জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অভিযুক্তরা সবাই পলাতক, তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। মানবাধিকার সংস্থা সমাকের দেবিদ্বার অঞ্চলের তদন্ত কর্মকর্তা মো. রাসেল জানান, গৃহকর্মীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাত ঘটানোকে পুঁজি করে স্থানীয় ইউপি সদস্য আল আমিনসহ অন্যান্যরা গ্রাম্য সালিসির নামে অভিযুক্ত জসিমের পক্ষ নিয়ে তাকে সহায়তা করাসহ কিশোরীর অসহায় পরিবারকে গ্রামছাড়া করে। সেই মাতব্বরদের রহস্যজনক কারণে মামলায় অভিযুক্ত করা হয়নি। তিনি তদন্ত সাপেক্ষে এ মামলায় তাদেরও চার্জশিটভুক্ত করার দাবি জানান। কামাল উদ্দিন/এআরএ/আরআইপি