চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সবুজ শিকদারের উপর হামলার অভিযোগে ১০ শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। রোববার সবুজ শিকদার বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।এর আগে গত ৮ এপ্রিল বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের চারারগোপ এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে সবুজ শিকদারের উপর হামলার অভিযোগে সদর মডেল অভিযোগ দায়ের হয়েছিল।মামলার আসামিরা হলেন, দেওভোগ নাগবাড়ি এলাকার হাবিবুর রহমান ডাক্তারের ছেলে শ্রমিক নেতা মাহমুদ, পাগলা শাহীবাজার এলাকার জয়নাল আবেদীনের ছেলে জাহাঙ্গীর, হারুন মোল্লা, রিপন বাবু, জিয়া, শাহীন মোল্লা, সোহেল, শাহজাহান হাওলাদার, রাসেল, জামাল। এছাড়া অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরো ৩/৪ জনকে। আসামিরা বাংলাদেশ কার্গো ট্রলার শ্রমিক সংগঠনের নেতা বলে জানা গেছে। সবুজ শিকদার মামলায় উল্লেখ করেন, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রিকশাযোগে শহরের ৫নং ঘাটের নারায়ণগঞ্জ অফিসের দিকে যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে চারারগোপ এলাকায় মাহমুদ, জাহাঙ্গীর, হারুন মোল্লা, রিপন বাবু, জিয়া, শাহীন মোল্লা, সোহেল, শাহজাহান হাওলাদার, রাসেল, জামালসহ অজ্ঞাত আরো ৩/৪ জন আমার রিকশার গতিরোধ করে। এরপর তারা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। আমি গালাগালের কারণ জানতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে মাহমুদের হাতে থাকা ইট দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করে জখম করে। জাহাঙ্গীর তার হাতে থাকা কাঠ দিয়ে পিঠে আঘাত করে। হারুন মোল্লা তার হাতে থাকা বাঁশ দিয়ে আঘাত করে আমার শরীরের বিভন্ন স্থানে জখম করে। রিপন বাবু, রাসেল ও জামাল আমাকে কিলঘুসি মারতে থাকে। জিয়া আমার গলাচেপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালায়। শাহীন মোল্লা, সোহেল, শাহজাহান হাওলাদার আমার পকেটে থাকা সগদ ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং একটি দামি ঘড়ি লুটে নেয়। পরে আমার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা বেশি বাড়াবাড়ি করলে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়ে চলে যায়।সবুজ শিকদার জানান, গত ২ মার্চ ৫নং ঘাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে নোঙর করে রাখা নৌযান শ্রমিকদের কাছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের (ডিসি অফিস) স্বাক্ষরিত কাগজ দেখিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠে কতিপয় নৌযান শ্রমিক সংগঠনের নেতার বিরুদ্ধে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় ওই দিন সন্ধ্যায় পূর্বাঞ্চল নামের বাল্কহেডের সুকানী মো. সেলিমকে মারধর করা হয়। রাতে ওই নৌযান সুকানী সদর মডেল থানায় পাঁচ শ্রমিক নেতা জাহাঙ্গীর, মাহমুদ, রিপন, শাহিন মোল্লা ও শাহজাহানের নাম উল্লেখ করে সদর মডেল থানায় অভিযোগ করেন। এ ঘটনার জের ধরে তারা আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক জানান, আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।সাহাদত হোসেন/এআরএ/এবিএস